সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে দরবার শরিফে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে দরবার শরিফে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বাৎসরিক অনুষ্ঠান চলাকালিন সময়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রশিদিয়া দরবার শরিফে ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার চর সাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু হামলার ভয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মুখ খোলছেন না দরবার শরিফের লোকজন। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চর সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়েত নেতা জাহাঙ্গীর আলম বয়েন এবং সাদিরপুর আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়েতের আমীর আবু তালেবের নেতৃত্বে এ হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী ও দরবার শরিফের লোকজন জানান,

প্রায় ৭ বছর ধরে হযরত খাজা শাহসুফিয়া দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতি নিজামি (রাঃ) এর স্মরণ প্রতিবছর ১৩ আশ্বিন সাদিপুর রশিদিয়া দরবার শরিফে বাৎসরিক ওয়াজ ও মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন চলে আসছে। দরবার শরিফখানা পরিচালনা করেন স্থানীয় মৃত করিম মিস্ত্রির ছেলে মো. জিল্লুর রহমান (৬০)। প্রতিবারের ন্যায় গতকাল রোববার এশার নামাজের পর শুরু হয় ওয়াজ মাহফিল। মাহফিলের বক্তব্য শেষে হুজুর যখন মোনাজাত শুরু করেন। ঠিক তখন এক দল নানা বয়সি স্থানীয় লোকজন এসে প্রথমে দরবার শরিফে ভাঙচুর করেন। এরপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যান।

এসময় তবারক ফেলে ভয়ে পালিয়ে যান দরবার শরিফের পরিচালক ও উপস্থিত ভক্তবৃন্দ। এতে আতঙ্কে পালিয়েছেন রশিদিয়া দরবার শরিফের পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান। সেজন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিচালকের ছেলে রাসেল হোসেন ফোনে অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৭ বছর ধরে তারা ১৩ আশ্বিন বাৎসরিক ওয়াজ ও মোনাজাতের আয়োজন করে আসছেন। প্রতিবার ২০০ থেকে ৩০০ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত হতো।

তবে দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে মাত্র ১৫০ জনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়েছিল ৮০ জনের মতো। তার ভাষ্য, হুজুর ওয়াজ শেষে মোনাজাত শুরু করতে না করতেই একদল জামায়েত-শিবিরের লোকজন এসে প্রথমে ভাঙচুর করল। পরে দরবার শরিফে আগুন লাগিয়ে দিলেন। আর ভয়ে তিনি, তার বাবাসহ উপস্থিত ভক্তরা তবারক ফেলে পালিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, হামলাকারীদের তিনি নাম পরিচয় জানেন। তবে এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে সাদিপুর বাজারের একাধিক ব্যক্তি বলেন, চর সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়েত নেতা জাহাঙ্গীর আলম বয়েন এবং সাদিরপুর আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়েতের আমীর আবু তালেবের নেতৃত্বে দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চর সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়েত নেতা জাহাঙ্গীর আলম বয়েন। তিনি বলেন, দরবার শরিফের নামে সেখানে মাদকের আড্ডা চলে। সেজন্য স্থানীয় ছেলে পেলে তা ভেঙে দিয়েছে। তিনি ছেলেপেলেদের সেসময় ভাঙতে নিষেধ করেছিলেন।

তবে তিনি এঘটনায় জড়িত নন। আর সেখানে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ অস্বীকার করে চর সাদিপুর ইউনিয়ন জামায়েতের আমীর ও সাদিপুর মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবু তালেব বলেন, ঘটনার সময় তিনি অন্য একটি বাজারে ছিলেন। দরবারে আগুন ও ভাঙচরের ঘটনা তিনি ফেসবুক থেকে জেনেছেন। পরে লোক মাধ্যমে তিনি শুনেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা এ কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তার দলের সুনাম নষ্ট করার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যে দোষারোপ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি জননি চর সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মেছের আলী খাঁ।