সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৩
সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

বুধবার (৩০আগস্ট) ১০টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, তফসিলি ব্যাংক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া’র আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে কৃষি ঋণ মেলা ২০০৩ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ এহেতেশাম রেজা । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি কুষ্টিয়া প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার আব্দুস সালাম’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী ঢাকা’র উপ-পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান । সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা।

সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

কৃষি ঋণ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহ্মুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপস্) পলাশ কান্তি নাথ, কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আ স ম আখতারুজ্জামান মাসুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রফিকুল আলম টুকু, কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার আনিসুর রহমান ।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আখতার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ট্রেজারী ও স্ট্যাম্প শাখা, গোপনীয় এবং নেজারত শাখা) শাহেদ আরমান এবং বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহ মেলায় আগত কৃষি ঋণের উপকারভোগী ও নতুন কৃষি ঋণ গৃহিতা কৃষকেরা । কৃষি ঋণ মেলা ২০০৩ সর্বমোট ২৯টি সরকারী তফসিলভুক্ত সরকারি এবং বে-সরকারী ব্যাংক অংশগ্রহন করেন। প্রতিটি ব্যাংক তাদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টলে আগত কৃষক এবং ঋণ ভোগীদের নিকট কৃষি ঋণের বিভিন্ন ইতবাচক দিক তুলে ধরেন। এছাড়াও তাদেরকে কৃষি ঋণ নিয়ে কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে গঠনমূলক দিকনির্দেশনা দেন ।

কৃষি ঋণ মেলা ২০০৩ এ অংশ গ্রহনকারী ব্যাংক গুলো হলো-অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক ব্যাংক লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, স্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, বেসিক ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ।

কৃষি মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপস্) পলাশ কান্তি নাথ বলেন- কৃষি মেলার উদ্দেশ্যে হলো কিভাবে সহজ শর্তে কৃষকদেরকে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া যায় সেটা জানানোর জন্য। কৃষকদেরকে ঋণ দেওয়ার জন্য যে মেলা সেই মেলার উদ্দেশ্য যেন বাস্তবায়ন হয় সেটাও যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে অনেক কিছু উদ্বোধন করা হয়, কিন্তু উদ্বোধনের পরে সেটার আর কোন কার্যকর রূপ থাকে না। তাই আমি অনুরোধ করবো যারা ব্যাংকিং সেক্টরে নীতি নির্ধারক আছেন বা নিয়ন্ত্রক আছেন মেলার উদ্বোধনের পরবর্তী সময়ে কৃষকরা যেন কৃষকরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় ।

সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে : ডিসি এহেতেশাম রেজা

কৃষি মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহ্মুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। তখন একটি ধানের জাত ছিলো বিআর ৩, মাত্র দুইটা জাত নিয়ে তখন আমরা অগ্রসর হয়েছিলাম। আজকে কিন্তু ধানের জাত ১১০টা, তার মানে আমাদের খাদ্য এখন উদ্বৃত্ত। দেশ স্বাধীনের পরে খাদ্য উৎপাদন হয়েছিলো মাত্র এক কোটি দশ লক্ষ মেট্রিক টন। সেখানে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদন হয় চার কোটি পনের থেকে বিশ লক্ষ মেট্রিক টন। কুষ্টিয়া জেলায় খাদ্য উদ্বৃত্ত, সবজিতে উদ্বৃত্ত, মসলা জাতীয় ফসলে উদ্বৃত্ত, ফলে উদ্বৃত্ত। এখন শুধু আমাদের নতুন লক্ষ্য রয়েছে তেল জাতীয় ফসলে উদ্বৃত্ত করা এবং সেখানে প্রায় ৪৫ শতাংশ তেল উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছি। একটা কথা না বললেই নয়, কেন এই প্রণোদনা প্যাকেজ, কেন এই প্রণোদনা? কারণ কোন ফার্মকে যদি প্রণোদনা প্যাকেজ বা সাবসিডি দেওয়া হয়, ঐ ফার্মের কিন্তু উৎপাদন বেড়ে যায়। সেই কারণেই কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য প্রণোদনা বা সাবসিডি দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার শুধু সার এ ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়ে থাকে। এছাড়াও সরিষা, মসুর, গম ও ভূট্টা উৎপাদনে সরকার প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকেও স্বল্প সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে কিন্তু স্পেশাল প্রণোদনা প্যাকেজ সৃষ্টি করা হয়েছে। ১২-১৫ শতাংশ থেকে সুদের হার কমিয়ে কৃষি মাত্র ৪ শতাংশ সুদের হার করা হয়েছে। তাতে গম ও ভূট্টাসহ আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে আনার জন্যই সুদের হার ৪ শতাংশ করা হয়েছে। একটা জয়গা থেকে দৌঁড়ালে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সকল জায়গা থেকে ফোকাস তৈরি করতে হবে।

প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্যের শুরুতে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ এহেতেশাম রেজা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন । কৃষি মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, কৃষি মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। এইভাবে এতগুলো ব্যাংকে অন্য কোন জায়গায় পাওয়া সম্ভব না। এই মেলা উপলক্ষে সুযোগ কাজে লাগে ঋণ সম্পর্কে আপনারা সুস্পষ্ট একটা ধারণা নিতে পারেন। এখানে অংশ গ্রহণকারী ব্যাংকের বুথে গিয়ে আপনারা লোন প্রদান পদ্ধতি সম্পর্কে আপনারা যাতে একটা সন্মুখ ধারনা পেতে পারেন সেই কারণেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কৃষক এবং ব্যাংকের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার মূল লক্ষ হলো কৃষি ঋণ মেলা। ঋণ প্রদান যেন সহজতর হয় সেই লক্ষ্যেই এই মেলা । মেলায় অংশ গ্রহনকারী ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা সহজতর উপায়ে কৃষকেদের ঋণ গ্রহন পদ্ধতি বুঝিয়ে দিবেন যে কিভাবে তারা এই ঋণ পেতে পারে এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে নিয়মনীতি গুলো আছে একটু কষ্ট হলেও আপনারা তাদেরকে এগুলো ব্যাখ্যা করবেন।

উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আমরা বিগত দুই বছরে কৃষির যে গুরুত্ব তা আমরা হাঁড়ে হাঁড়ে অনুধাবন করেছি সারা বিশ্বব্যাপি। করোনা সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হাওয়ার কারণে অনেক উন্নত দেশ যাদের মাথাপিছু আয় ১২ থেকে ২০ হাজার ডলার তারাও হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিল। কারণ তারা সম্পূর্ণ কৃষি পণ্য আমদানি করতো। আমাদের কৃষক ভাইদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, কারণ তাদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে এই সময়টিতেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র সফল নেতৃত্বে আমাদের খাদ্যে এই ধরণের বড় আঘাত হানতে পারে নাই। করোনা’র সময়েও আমাদের খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক ছিলো। আর এই উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার পিছনে বর্তমান সরাকরের নীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো। যেটি আপনারা দেখছেন যে প্রণোদনা প্যাকেজ ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও ব্যাংকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক যখন ঋণ দেয় তখন তাদের প্রধানতম শর্তই হলো সাবসিডি যে দেওয়া হয় এই সাবসিডি বন্ধ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি কখনোই করেন নাই। গত অর্থবছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা জ্বালানী খাতে, ত্রিশ হাজার কোটি টাকা সারে, ১৭ হাজার কোটি টাকা কৃষিতে। সরকার বিভিন্নভাবে কৃষি সেক্টরটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবসিডি প্রদান করে আসছে। কৃষি ঋণ মেলা ২০০৩ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা শেষে ঋণ প্রত্যাশি কৃষকের মাঝে ঋণ প্রদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা ।

আরও পড়ুন: