বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ নানা ধরনের ভাতাভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে মোবাইল আশা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। ভাতা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যে নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খোলা বা যাবতীয় তথ্য প্রতারক চক্র পাচ্ছে কি ভাবে? নাম্বার হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

কুমারখালী উপজেলার দড়ি মালিয়াট গ্রামের রমজান আলী ৬৫-ঊর্ধ্ব । গত (১৯ ডিসেম্বর) তার মোবাইল ব্যাংকিং ‘নগদ’ হিসাবে বয়স্ক ভাতার ২৫ শ’ টাকা জমা হয়। অসহায় এ বৃদ্ধের টাকা পেয়ে খুবই খুশি। নিজের চিকিৎসা খরচ মেটানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞাত একটি মুঠোফোনের নম্বরে কল আসে তার ফোনে। অন্যপ্রান্ত থেকে নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার হিসাব নম্বরের পিনকোড জানতে চায় প্রতারক চক্র। সমাজসেবার কর্মকর্তা ভেবে জানিয়ে দেন পিনকোড। মুহূর্তেই তার অ্যাকাউন্টে আসা ভাতার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। তিনি বিষয়টি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানান। শুধু বৃদ্ধ রমজান নন, তার মতো এমন প্রতারণার শিকার হয়েছে একই গ্রামের প্রতিবন্ধী রাতুল শেখ (১৪) তার ভাতার টাকা একই ভাবে তুলে নিছে প্রতারক চক্র।
কুমারখালী উপজেলার অসংখ্য বয়স্ক ভাতাভোগী। উপজেলার অন্তত প্রায় অর্ধশত জন ভাতাভোগী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাতুলের মা থানায় জিডি করেছেন। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে একই কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার । প্রতি মাসে তারা ৫০০ টাকা থেকে ৭ শ’ ৫০ টাকা করে ভাতা পান। প্রতি তিন মাস, ছয় মাস এবং ক্ষেত্রবিশেষে এক বছর পরপর তাদের মোবাইল ব্যাংকিং নগদের হিসাব নম্বরে এককালীন ওই টাকা জমা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পুরনো এবং নতুন তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীদের টাকা গত মাসে তাদের হিসাব নম্বরে জমা হয়। টাকা জমা হওয়ার পর উপজেলার আরজিনা খাতুন, আরশাফ, সহ অন্তত ৩০ জন ভাতাভোগীর প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। প্রতারিত হওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ ছাড়াও অনেকে কুমারখালী সমাজসেবা অধিদপ্তরে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোহাম্মদ আলী‘ বলেন , কৌশলে নগদের পিনকোড জেনে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। আমরা ভাতাভোগীদের অনেক বার বলছি , সমাজ সেবা অফিস থেকে কোন পিন কোড চাওয়া হয় না। অনেকেই এই বিষয়ে অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি। ‘বয়স্ক ভাতা ছাড়াও আমাদের অন্যান্য সেবার টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা সবাইকে বলে থাকি কোনো অবস্থায় যেন অ্যাকাউন্টের পিনকোড কারও সঙ্গে শেয়ার না করে। সবাইকে সচেতন করতে আমরা বিভিন্ন সময় ফেসবুকে প্রচার – প্রচারণা করে থাকি। মূলত নতুন যারা ভাতার আওতায় এসেছেন তাদের মধ্যে থেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিকুল ইসলাম আকিব বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারিত হয়ে গত কয়েক দিনে ভাতাভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই প্রতারক চক্রটিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যেসব নম্বরে তাদের টাকাগুলো ট্রান্সফার করা হয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
