সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়া গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা শীর্ষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার(১৭ সেন্টার) সকাল দশটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত।সেমিনারে উপপরিচালক (উপসচিব) স্থানীয় সরকার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলন,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার, আইসিটি শাখা, শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা, ই-সেবা কেন্দ্র, প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মুল্যায়ন শাখা) মনিরা আকতার, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি  আল-মামুন সাগর, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন এবং এবং পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান,জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।

কর্মশালায় বলা হয়, বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে সহজ করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয় করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার জনগণ বিশেষত নারী জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর মানুষের ন্যায় বিচারের সুযোগ বৃদ্ধি করা। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন,জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৬১টি জেলার ৪৬৫ উপজেলা এবং ৪৪৫৭টি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মশালায় গ্রাম আদালতের সাফল্য তুলে ধরে বলা হয়, কুষ্টিয়া জেলায় ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত গ্রাম আদালতে ফৌজদারী ও দেওয়ানি মামলা মিলিয়ে মোট ৩৩১২টি মামলা দায়ের হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার হার ৮৩.৬৩। একইসঙ্গে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে।

গ্রাম আদালত অনধিক ৩ লাখ টাকা মূল্য মানের ফৌজদারী ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। কর্মশালায় আরও বলা হয়, গ্রাম আদালতের স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে বিরোধ ও বিবাদ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। প্রতিনিধি মনোনয়নে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী সমান সুযোগ পায়, পক্ষগণ নিজের কথা নিজে বলতে পারে আইনজীবী দরকার হয় না। গ্রাম আদালতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণ বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকলেই খুব সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পায়। সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক (উপসচিব) স্থানীয় সরকার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ জানেন না।গ্রাম আদালতে কী ধরনের মামলার বিচার হয়, কীভাবে এখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহজ ও উপযোগী একটি বিচারিক ব্যবস্থা।এই অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবের কারণেই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।