কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খাঁড়ারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মীর আশরাফ’র পুত্র মীর নিশান কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। করোনা’র শুরুতেই চাকুরী হারান নিশান। করোনা কালীন সময়ে পারিপার্শিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে আসনে এবং শুরু করেন কৃষিকাজ।

কৃষি কাজে তার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও জীবণ এবং জীবিকার তাদিগেই তার এই কৃষি কাজে আসা। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে কৃষিকাজ করতে গিয়ে নিশানকে নানাবিধ সমস্যার সন্মুখী হতে হয়। কিন্তু কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নেমে যান কৃষি কাজে। প্রথম বছর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি তার বসতবাড়ি সংলগ্ন ৩৬ শতাংশ জমিতে বিগ বস নামক বেগুনের আবাদ করেন এবং প্রথম বছরেই বাজিমাত। তিনি, তার ৩৬ শতাংশ জমিতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ২,২০,০০০ টাকার বেগুন বিক্রি করেন। তিনি এ বছর তার ঐ জমিতে বিগ বস জাতের বেগুনের সাথে সাথী ফসল হিসাবে পুইশাক, বরবটি, সিম, শসা লাগান এবং সে সকল সাথী ফসল থেকে সে প্রতিমাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেন। বর্তমানে, তার জমিতে শোভা পাচ্ছে রকমারি সাজের বিভিন্ন সাইজের বেগুন। দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়, বেগুনের সাথে আছে বল্টু জাতের মরিচ, ক্যাপসিকাম, শসা এবং বরবটি। ইতোমধ্যে তার বেগুন বিক্রয় শুরু হয়ে গেছে এবং তিনি প্রতি সপ্তাহে ১০,০০০ টাকার বেগুন বিক্রয় করেছেন। তিনি আশা করছেন এ জমি থেকে আরও ২ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন। তার এ সাফল্যে অনেক বেকার যুবক এবং স্কুলগামী ছেলে মেয়েরা উৎসাহিত হচ্ছে। অনেকেই নতুন করে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এ নতুন জাতের বেগুনের আবাদও শুরু করেছে। জানতে চাইলে মীর নিশান বলেন, চাকরি ছাড়ার পর বাড়িতে বসে থাকতে অনেক কষ্ট হতো। তখন ভাবলাম এই সময়টা যদি আমি আমার নিজ জমিতে শ্রম দিয়ে কিছু একটা করতে পারি, তাহলে সময়ও কাটবে, পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরনের সাথেে সাথে কিছু বেকার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। এর পরই থেকেই আমার কৃষি কাজের যাত্রা শুরু। এরপর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে বিগ বস জাতের বেগুনের আবাদ করলাম। প্রথম বছরেই আমার ৩৬ শতাংশ জমিতে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা লাভ করেছিলাম। এ বছর বেগুনের সাথে সাথী ফসল হিসাবে সিম, বরবটি এবং মরিচ ইত্যাদি সাথী ফসল বিক্রিয় করে ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে এবং সেই সাথে সপ্তাহে ১০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। বর্তমানে বাজার মূল্যও খুব ভাল, প্রতিকেজি বেগুন মাঠ থেকে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারব। জমিতে কাজ করে বর্তমানে আমার ভালো ভাবে সময় চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ২-৩ জন লোক আমার ক্ষেতে নিয়মিত শ্রম দিচ্ছে।
