সনদ বাতিল হচ্ছে ইবির সাবেক সহ-সমন্বয়কের - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সনদ বাতিল হচ্ছে ইবির সাবেক সহ-সমন্বয়কের

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

ইবি প্রতিনিধি ॥ বিদেশি অধ্যাপকের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে সনদ বাতিল হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক সহ-সমন্বয়ক ও অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসানের। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নিউ অরলিন্সের (টঘঙ) এক প্রফেসরের স্বাক্ষর নকল করে তিনি একটি ভুয়া চাকরির প্রস্তাবপত্র (অফার লেটার) তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ -এর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সনদ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিজের মূল সনদ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সহজ করতে নাহিদ হাসান এই জাল অফার লেটার তৈরি করেন। নথিতে উল্লেখ করা হয়, ইউনিভার্সিটি অফ নিউ অরলিন্সের অর্থনীতি ও অর্থসংস্থান বিভাগ থেকে তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (ঞঅ) পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, তার কর্মকাল শুরু হবে ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে এবং শেষ হবে ১৩ মে ২০২৭ পর্যন্ত। পাশাপাশি বাৎসরিক ১৮ হাজার মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড, ফুল-টাইম গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্তি ও নন-রেসিডেন্ট ফি মওকুফের তথ্যও উল্লেখ করা হয়

অন্য একটি নথিতে দেখা যায়, নাহিদ হাসান ১৪ নভেম্বর ওই অফার গ্রহণ করেছেন বলে দেখানো হয় এবং সেখানে তার স্বাক্ষর সংযুক্ত রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ নিউ অরলিন্সের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও পিএইচডি প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী ড. কবীর হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া অফার লেটার তৈরি করা হয়েছে। এটি স্পষ্টতই অনৈতিক কাজ। এর আগে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নাহিদ হাসান স্বীকার করে বলেন, এটা সত্য যে পদ্ধতিটা ভুল হয়েছে যাওয়াটা ঠিক না। কিন্তু আমার মূল সার্টিফিকেটটা আসলে দরকার ছিল। তো আমি ঢাকায় থাকার কারণে নিজে গিয়ে কাজটা করতে পারি নাই। তিনি বলেন, যাকে পাঠিয়েছিলাম তাকে প্রথমে না করেেেছএবং বলছিল যে সমাবর্তন ছাড়া হবে না। পরে আরকি ওইভাবে কাজটা করা।

এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর সূত্রে জানা যায়, প্রথমে অফার লেটার সংযুক্ত করে আবেদন জমা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রফেসরকে ই-মেইল পাঠায়। কিন্তু সাড়া না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিশেষ সুপারিশে নাহিদ হাসান মূল সনদ উত্তোলনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুপারিশের পর তার সনদ প্রিন্ট সম্পন্ন হলেও এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, প্রশাসন বিষয়টি অবগত আছেন। পূর্ণাঙ্গ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সনদ বাতিল করা হবে।