বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ডাবিরাভিটা গ্রামে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জেরে এক অসহায় পরিবারের ২০ শতক পৈতৃক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আমীর হামজার দাদা ও পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি সাত্তার সর্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মৃত মোজহার বিশ্বাসের ছেলে নাসির উদ্দিন ও মাহিবুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. নাসিরউদ্দিন, তার ভাই ইনামুল হক ও পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নাসিরউদ্দিনের দাবি, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে কাজ ও ভোট দেওয়ার জেরে তাকে ও তার পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “আমি সামান্য চা দোকানদার। নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট করায় এমপি সাহেবের দাদা সাত্তার সর্দার, যুবলীগ নেতা নাসির ও মাহবুলের নেতৃত্বে আমাকে মারধর করে ২০ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। মাঠে ধান লাগাতে গেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। দৌড়ে না পালালে হয়তো প্রাণে বাঁচতাম না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজার-ঘাটে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। “তোদের যত বিএনপি আছে, ভালো-মন্দ খাওয়ায় নে-তোদের দেখে নেব,”এমন হুমকি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। নাসিরউদ্দিনের ভাই ইনামুল হক বলেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। শরিকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন সালিশ-মামলা চলেছে।
একাধিক মামলায় আদালতের রায় তাদের পক্ষে এলেও বাস্তবে জমির দখল টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তার অভিযোগ, “৫-৭ বছর মামলা চালিয়েছি। থানায় মামলা করেছি। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দখল পেয়েছি। কিন্তু কিছুদিন পর আবার দখল নিয়ে নেয়। মারধর করে, ধান কেটে নেয়। এবার নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পর আবারো উচ্ছেদ করা হয়েছে।” ইনামুলের ভাষ্য, “স্বাধীন দেশে যে যাকে খুশি ভোট দেবে। বিএনপিকে ভালোবেসে ভোট করেছি এটাই কি অপরাধ? এখন বলা হচ্ছে ‘দল ক্ষমতায়, জমিও আমাদের’।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি পাচ্ছি। ঘর থেকে বের হতে ভয় লাগে। কখন কী হয় জানি না।” ইনামুলের স্ত্রী হাসিনা খাতুন বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। ধানের শীষে ভোট করেছি বলে বাড়িঘর ভাঙার ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কেমন বিচার?”
নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী রুপালি খাতুনও অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে মাঠে কাজ করতে গেলে একদল লোক মারতে যায় এবং নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাত্তার সর্দার বলেন, জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার দাবি, জমিটি ভুলক্রমে নাসিরউদ্দিনের বাবার নামে রেকর্ড হওয়ায় শরিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” এ বিষয়ে কথা বলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
