গাংনী প্রতিনিধি \\ মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলা শহর এখন ধুলার শহরে পরিণত হয়েছে। সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও প্রতিদিন পানি না ছিটানোর জন্য দিনের বেলায় অন্ধকার মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গাংনী উপজেলা শহর। ধুলায় ঢাকা পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এই জনপদ। শহরে উড়ছে ধুলাবালির কণা। ধুলার কারণে গাংনী উপজেলা শহরে বেড়েছে বায়ু দূষণের মাত্রা। রাস্তায় নেমেই নাকাল হচ্ছেন শহরবাসী। নাকে-মুখে, চোখে ধুলা ঢুকে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দূষিত পরিবেশে বাড়ছে রোগ-বালাই। বিশেষ করে অ্যাজমা, অ্যালার্জি, কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এমন দূষণে চরম হুমকির মুখে উপজেলার জনস্বাস্থ্য। এদিকে রাস্তা নির্মাণ কাজের ধীরগতিতেও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাদের কর্মকান্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অনেকে অতিষ্ঠ হয়ে বলেছেন এ অবস্থা দেখার কী কেউ নেই? গাংনী সিনেমা হলপাড়ার দোকানদার বাদল মিয়া বলেন, প্রধান সড়কের পাশে হাঁটু পর্যন্ত ধুলা জমেছে। যানবাহনগুলো যাওয়ার সাথে সাথে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে এলাকা। দোকানের মধ্যে এমন কি বাসা বাড়িতেও ধুলায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। গাংনী হাসপাতাল বাজার এলাকার বাদশা মিয়া বলেন, রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে একটু সমস্যা হবে সেটা আমরা জানি। কিন্তু রাস্তার পাশে খুঁড়ে সেখানে বালি খোয়া ভরাট না করে ফেলে রেখেছে। খোয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ না দিয়ে শুধু স্থানীয় বালি দেওয়ার কারণে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সেদিকে খেয়াল নেই। গাংনী শহরের ছাত্র তৌসিফ হাসান বলেন, আমাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন আমরা এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করি ধুলার মধ্যদিয়ে তাই আমাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮শ কোটি টাকা ব্যয়ে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের তিনটা প্যাকেজে আট কিলোমিটার ফোর লেনসহ নির্মাণ কাজ চলছে। যা মেহেরপুরের গাংনী অংশে প্রায় ৯০ কোটি টাকার উপরে ব্যয় ধরা হয়েছে। গাংনী উপজেলা শহরে প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার ফোরলেন রাস্তা নির্মাণ হবে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল আল মারুফ বলেন, ধুলাবালি মানবস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ধুলাবালির কারণে অ্যাল্যার্জি, রাইনাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাইনোসাইটিস, অ্যাজমা, বাধাজনিত শ্বাসরোগ, চোখ ওঠা, নিউমোনিয়া, রেসট্রিকটিভ লাঞ্চ ডিজিজ, ফুসফুস বা শ্বাসনালীর অন্য যে কোনো রোগ থাকলে তার প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ বিষয়ে মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তায় ধুলাবালি রোধ করতে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশ দিয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঠিক আছে আমি ঠিকাদারকে বলে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করছি। ঠিকাদার জাহিরুল লিমিটেডের মালিক জহিরুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
