খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র অনিক বিশ্বাস। উপজেলা সদরের পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর গ্রামের আবুল কালামের বড় ছেলে। ছোট ভাই ও মাকে নিয়ে তাদের চারজনের সংসার। ১৮ বছর ধরে বাবা আবুল কালাম গোদ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বাজারে নৈশপ্রহরীর চাকরি নিয়েছে অনিক। চারজনের সংসার চালিয়ে অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা করাতে পারছে না অনিক। সংসারের ঘানি টানতে টানতে সে ক্লান্ত। তার বাবাকে তিন বছর আগে প্রতিবন্ধীর কার্ড দেওয়া হয়। তার বাবা ভাতা পেতে আবেদনও করেও পাননি। এক সময়ে গ্রিলের মিস্ত্রির কাজ করতেন আবুল কালাম (৪৫)। অসুস্থতার কারণে এখন তাঁকে কেউ কাজে নেয় না। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে নৈশপ্রহরীর কাজ নেন। তাঁর দুটি পায়ে গোদরোগ ৬/৭টি বড় বড় টিউমার আকৃতি ধারণ করেছে। একটি টিউমার ফেটে গেছে। হাঁটতে না পারায় বড় ছেলে অনিককে নিজের কাজে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এ থেকে অনিকের জীবন-সংগ্রামের শুরু। অনিক জানায়, বাবা নৈশপ্রহরীর চাকরি করতেন। কিন্তু সাড়ে ৩ মাস আগে বাবা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সে নিজে এখন বাজার পাহারার কাজ করে। তার বেতন ধরা হয়েছে ৮৫০০ টাকা। এই সামান্য বেতনে তাদের সংসার চলে না। তাই পড়ালেখার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্র মেরামতের কাজ করে। সারা রাত জেগে বাড়ি ফিরে পড়ালেখা করা খুবই কঠিন। তবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায় সে। আবুল কালামের ভাষ্য, তাদের পারিবারিক একটি ওয়ার্কশপ ছিল। তিনি ও তাঁর বাবা গ্রিলের মিস্ত্রি ছিলেন। তবে নিজে ও বাবা অসুস্থ হওয়ায় ওয়ার্কশপ বিক্রি করে চিকিৎসায় ব্যয় করেছিলেন। এখন এক মুঠো ভাতের জন্য ১৫ বছরের ছেলেকে দিয়ে পাহারাদারের চাকরি করাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির কাছে একটি টিউমার কয়েক সপ্তাহ আগে ফেটে গেছে। ক্ষতস্থান দিয়ে সারা বেলা পুঁজ ও রক্ত পড়ে। প্রতিদিনই হাসপাতাল থেকে ড্রেসিং করান। এখন হাসপাতালে যাওয়ার ভ্যান ভাড়ার টাকাও তাদের নেই। অনিকের মা হীরা খাতুন বললেন, ওয়ার্কশপ বিক্রির টাকা দিয়ে তৈরি করা আধাপাকা ঘরটি তাদের কাল হয়েছে। এ ঘরের কারণে তারা সরকারি সাহায্য পান না। ছেলে যে বেতন পায় তা দিয়ে চারজনের সংসার চালানো কঠিন। টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কালামের প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, আবুল কালাম গত বছর অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। তাঁর ভাতা পাওয়ার বিষয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বরে ভাতার অর্থ দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদী।
