রঞ্জুউর রহমান ॥ ডিসি এহেতেশাম রেজা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তীতে শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে সকল দেশর শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাকে জাতীয়করণ করেন এবং দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধি করার কাজ করেন। গত বুধবার (১ মে) সকাল ৯.৩০ জেলা প্রশাসান চত্বরে শ্রমিক- মালিক গড়বো দেশ,স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র কুষ্টিয়া এর আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়, র্যালী শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহান মে দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরে উপ-পরিচালক মোঃ জহুরুল ইসলাম,অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ তারেক জুবায়ে, রেনউইক এন্ড যজ্ঞেশ্বর কো. লি., কুষ্টিয়া ও অন্যান্য মোঃ ওমাহমুদুল হক,জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগ সাধারণ সাম্পাদক মোঃ আমজাদ আলী খান,কলাখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর উপমহাপরিদর্শক মোঃ ফরহাদ ওহাব। উপস্থিত বক্তারা মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন,হে মার্কেট অ্যাফেয়ারের স্মরণে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেখানে শ্রমিকরা ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের জন্য প্রতিবাদ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, মে দিবস নামেও পরিচিত, প্রতি বছর ১ মে পালিত হয়। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অবদান এবং অধিকারকে সম্মান করার জন্য উৎসর্গীকৃত, আমাদের সমাজ গঠনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯ শতকের শ্রমিক আন্দোলন থেকে শ্রমিক দিবসের উৎপত্তি, যেখানে শ্রমিকরা আরও ভাল কাজের পরিবেশ, সংক্ষিপ্ত কাজের সময় এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন।অনেক দেশে, শ্রম দিবস একটি জাতীয় সরকারী ছুটির দিন হিসাবে পালন করা হয়, যার ফলে শ্রমিকরা প্রাপ্য বিরতি নিতে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে। এই ঐতিহ্য কর্ম-জীবনের ভারসাম্য এবং বিশ্রাম এবং শিথিলকরণের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়।শ্রম দিবস শ্রমিকদের অধিকারের অগ্রগতি এবং চলমান চ্যালেঞ্জগুলি প্রতিফলিত করার সময় হিসাবে কাজ করে। এটি ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং বিশ্বব্যাপী কর্মশক্তির সামগ্রিক কল্যাণের পক্ষে নতুন প্রতিশ্রুতির প্রতিনিধিত্ব করে। জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। বর্তমান পৃথিবী প্রতিযোগিতামূলক, তাই যে যে কর্মে নিয়োজিত আছে সে কর্মের দক্ষতা অর্জন করতে হবে,তাহলে একটি আরামদায়ক জীবন অর্জন করা সম্ভব। সেই দক্ষতা অর্জনে নিজেক সচেষ্ট থাকতে হবে। মালিক এবং শ্রমিক কোন বিভাজন করা যাবে না। একটা সময় ছিল যখন শুধু বেকারত্ব ঘোঁচানোর জন্য কর্মসংস্থানের প্রয়োজন ছিল।কিন্তু এখন শুধু কর্মসংস্থানই নয় বরং নিরাপদ ও কর্ম পরিবেশে কাজ করা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণের সময় এসেছে। জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রথম শ্রমনিতী প্রণয়ন করেন। ১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচনা করা হয়েছিল সেখানে (আর্টিকেল ১৪) তে স্পষ্ট করে বলা আছে সকল শ্রমিক ও কৃষককে শোষণ এবং বঞ্চনার থেকে মুক্তি রাখতে হবে এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তীতে শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাকে জাতীয়করণ এবং দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধি করার কাজ করেন। সেই সংবিধান দ্বারা এই সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং শ্রমিকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
