শীতের আগমনে ভেড়ামারায় পিঠা বিক্রির ধুম - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শীতের আগমনে ভেড়ামারায় পিঠা বিক্রির ধুম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ শীত মানেই পিঠা-পুলির উৎসব। শীত মানেই হিমেল হাওয়ায় ধোঁয়া ওঠা চিতই, পুলি ও ভাপা পিঠার স্বাদ নেয়ার সময়। শীত এলেই শহর ও গ্রামীণ হাটবাজারে নানা ধরনের পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। এবার শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের ফুটপাতে জমে উঠেছে শীতের পিঠার ব্যবসা। গরম গরম ভাপা ও চিতই পিঠা চুলা থেকে নামছে, আর ক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পিঠা কিনছেন। ভেড়ামারা শহরের অলিগলিতে শীতের পিঠা বিক্রির জোয়ার দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা শীত নামতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে তীব্র হয়। কর্মব্যস্ততার কারণে শহরের বাসাবাড়িতে আগের মতো অনেকেরই আর পিঠা বানানোর সময় ও সুযোগ হয়ে ওঠে না। তবে পিঠার স্বাদ নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না পিঠাপ্রেমীরা।

ফলে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরবাসীসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ ফুটপাতে গড়ে ওঠা পিঠার দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, প্রতি বছর শীতের মৌসুমে এক শ্রেণির মানুষ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বা সামান্য কম-বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করে পিঠা তৈরি ও বিক্রি করছেন। বিকাল হলেই ফুটপাতে মাটির চুলা জ্বালিয়ে তার ওপর ছোট ছোট মাটির পাতিল, লোহার কড়াই কিংবা হাঁড়ি বসিয়ে তৈরি হচ্ছে পিঠা। গরম গরম চিতই পিঠা নামিয়ে প্লেটে সাজানো হচ্ছে নানা ধরনের ভর্তা, যা ক্রেতাদের পরিবেশন করা হচ্ছে। প্রতি পিস চিতই পিঠা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা দরে। আর ভাপা পিঠা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়।

এতে একেকজন পিঠা বিক্রেতার দৈনিক আয় হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, থানা মোড়, গোডাউন মোড়, কলেজ মোড়, স্টেশন বাজার মোড়, রেলগেট বাসস্ট্যান্ড এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে শীতের পিঠা। থানা মোড় এলাকার এক পিঠা বিক্রেতা আনিছা বেগম জানান, শীত এলেই তাদের ব্যবসা ভালো হয়। বছরের অন্য সময় পিঠা বিক্রি না হলেও শীতের মৌসুমে দোকান খোলার পরপরই ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। তিনি আরও জানান, দিনের চেয়ে রাতে পিঠা বিক্রি বেশি হয়। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সিরিয়াল ধরে পিঠা বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে যে লাভ থাকে, তা দিয়েই তার সংসার ভালোভাবে চলে।

ফারাকপুর রেলগেট এলাকার পিঠা বিক্রেতা মোমেনা খাতুন জানান, তিনি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি চালের চিতই পিঠা বিক্রি করেন। পাশাপাশি দুধ চিতই পিঠাও বিক্রি করেন তিনি। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এক-দুদিন আগেই এসে তার কাছে অগ্রিম অর্ডার দিয়ে যান। কেউ কেউ চুলার আগুনের পাশে বসেই দু-চারটি করে পিঠা খেয়ে নেন। তিনি বলেন, “আমি সন্ধ্যার পরেই পিঠার দোকান খুলি। শীতকালে পিঠা বিক্রি করে পরিবার নিয়ে বেশ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছি।” পিঠা ক্রেতা আকছেদ, শাহ জামাল ও আমিরুল জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে শহরের বাসাবাড়িতে আগের মতো পিঠা বানানোর সময় অনেকেরই নেই। কালের বিবর্তনে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তবে ভ্রাম্যমাণ পিঠা বিক্রেতারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছেন। সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে ফুটপাতে গিয়ে পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা।