শিশুর বাসযোগ্য দেশ গড়তে তামাককে না বলি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়াই ভূমিকা রাখি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শিশুর বাসযোগ্য দেশ গড়তে তামাককে না বলি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়াই ভূমিকা রাখি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৪

রঞ্জুউর রহমান ॥ একটি অঙ্কুরকে বৃক্ষে পরিণত করার জন্য বৃষ্টি, তাপ, পানি ও আলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য তেমনি শিশুকে ভবিষ্যতের শিক্ষিত, আদর্শ ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিশু শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, ও সামাজিক ও পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষত, কোভিড পরবর্তী সময়ে। চাইল্ডহুড ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা শিশুদের হাঁপানি অনেক বেড়ে গিয়েছে, এখন তো অনেক বাচ্চাই হাঁপানির জন্য পুরোদস্তুর ইনহেলারের উপরে নির্ভরশীল। ইনহেলার ব্যবহারে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে আর পাঁচটা বাচ্চার মতো স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে। কিন্তু এদের সামনে ধূমপান করলে তার ধোঁয়ায় হাঁপানির সমস্যা দ্রুত বেড়ে যায়, প্রচন্ড কাশি শুরু হয়ে যায়, এককথায় তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ সমস্যা হয়। তাই যে সব বাচ্চার হাঁপানি আছে তাদের অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। যাতে বাচ্চাটির সামনে কেউ ধূমপান না করেন। হাঁপানি ছাড়াও বেশ কিছু বাচ্চা মাঝেমধ্যেই জ্বর ও সর্দিকাশিতে ভোগে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সুস্থ হওয়ার জন্য তাদের বারবার ওষুধ খেতে হয়। এদেরও প্যাসিভ স্মোকিংয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়। সাধারণত এদের সর্দিকাশি হলে এমনিতে সারতে চায় না। তার পরে সিগারেটের ধোঁয়া গেলে সেই সর্দিকাশি সারতে বেশ সময় লাগে। এছাড়াও যে বাচ্চাদের জন্মগত কিছু সমস্যা থাকে যেমন, জন্ম থেকেই হার্ট, ফুসফুস, কিডনিতে সমস্যা, চাইল্ডহুড লিউকোমিয়া হয়েছে তারা ক্রনিক ট্রিটমেন্টের মধ্যে থাকে, তাদের সামনে ধূমপান করা হলে তাদের যে চিকিৎসা চলছে তা ব্যাহত হয়।একদম সুস্থ বাচ্চাদের প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ক্ষতির ফল সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। কিন্তু বড়রা যদি নিয়মিত তাদের সামনে ধূমপান করেন তা হলে তাদের পরবর্তী জীবনে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। গর্ভাবস্থায় মা যদি ধূমপান করেন তা হলে গর্ভের শিশুটির যথেষ্ট ক্ষতি হয়। জন্মের পরে শিশুর ওজন কম হতে পারে, ক্রনিক হার্ট বা ফুসফুসের জটিল সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের সামনে কারও ধূমপান করা উচিত নয়। কারণ এতে মা সেকেন্ডারি স্মোকার হয়ে যাচ্ছেন, তাঁর গর্ভের শিশুটির জন্মের পরে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা থেকেই যায়।কোন ব্যক্তি যদি  বাইরে থেকে ধূমপান করে এলেও বেশ কিছুক্ষণ পরে বাচ্চাদের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ মুখে নিকোটিনের গন্ধ থাকে। সবচেয়ে ভাল হয় বাচ্চাদের কাছে যাওয়ার আগে জল দিয়ে কুলকুচি করে নিন। অনেকের নানা ধরনের গন্ধে অ্যালার্জি হয়। তাদের আবার হাঁপানি থাকলে তীব্র গন্ধে হাঁপানি বেড়ে যায়। এদের কিন্তু নিকোটিনের গন্ধেও সমস্যা হয়। তাই ধূমপান করেই বাচ্চাকে আদর করা বা তার মুখের সামনে গিয়ে কথা না বলাই ভাল। অভিভাবকদের জন্য-বাচ্চাকে কোলে নিয়ে, ঘরের মধ্যে বা গাড়িতে বাচ্চার সামনে ধূমপান করবেন না। পাবলিক প্লেসে অপরিচিত কেউ বাচ্চার সামনে ধূমপান করলে তাঁকে বাধা দিন বা সে জায়গা থেকে বাচ্চাকে নিয়ে সরে আসুন।শুধু নিজের সন্তান নয়, যাঁরা ধূমপান করেন, পথে ঘাটে সর্বত্র খেয়াল রাখবেন, বাচ্চাদের সামনে কখনওই ধূমপান করবেন না। যে মহিলারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাঁরা গর্ভধারণের আগে তাঁর এই অভ্যেসের কথা চিকিৎসককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিন এবং ধূমপান ও তামাক পণ্য পরিহার করুন। স্বামীর ক্ষেত্রেও এই একই পরামর্শ তিনি যদি নিয়মিত ধূমপান করেন বা চেন স্মোকার হন তা হলে সন্তানের পরিকল্পনা করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং ধূমপান ও তামাক পণ্য পরিহার করুন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কুষ্টিয়া আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকার বলেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান মানব জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। বিশেষ করে শিশুরা ও নারী এই পরোক্ষ ধূমপানের শ্বাসকষ্টসহ, শ্বাসনালির বিভিন্ন রোগ ও ক্যান্সারজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়া উচিত এবং আমাদের প্রত্যেকের উচিত উন্মুক্ত স্থান ও জনসমাগম স্থানে ধূমপান পরিহার করা।