বিশেষ প্রতিনিধি ॥ অনলাইনভিত্তিক জুয়া ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘শিশির’ নামের এক ব্যক্তির একাধিক কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ্যে এসেছে, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত এসব রেকর্ডিংয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম, বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তিনটি পৃথক অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম রেকর্ডিংয়ে ‘শিশির’ নামে পরিচিত ব্যক্তি অপর এক সহযোগীর সঙ্গে কথোপকথনে ‘রাকিব’ নামের একজনের আর্থিক অবস্থা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে নির্দিষ্ট সময় কাজ বন্ধ রাখলে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একটি ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থের ঘাটতির বিষয়ও উঠে আসে।
দ্বিতীয় রেকর্ডিংয়ে শিশির নিজেকে একটি বড় নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে থাকার দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, তার অধীনে “মিনিমাম ছয় হাজার” লোক কাজ করছে এবং পুরো বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তার গ্রুপের সদস্যরা প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে এবং একটি নির্দিষ্ট সূত্র থেকে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এক পর্যায়ে অন্তত ৫০ লাখ টাকা আয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তৃতীয় রেকর্ডিংয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরিচিতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেখানে ‘লালু ভাই’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একজন নারীকে নিয়ে আলোচনা শোনা যায়। এছাড়া ‘হামজা টু’ নামটিও কথোপকথনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের আরেকটি অংশ বা সংযোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কথোপকথন একটি সম্ভাব্য অনলাইন জুয়া বা অবৈধ ডিজিটাল লেনদেন চক্রের ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশে এ ধরনের কার্যক্রম চঁনষরপ এধসনষরহম অপঃ, ১৮৬৭ এবং উরমরঃধষ ঝবপঁৎরঃু অপঃ, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে এখনো কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি। সংশ্লিষ্টদের পরিচয়, অডিওর সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই সাপেক্ষে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, অভিযুক্ত শিশিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে গত কিছুদিন পূর্বে শিশিরের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আনেন রাকিব নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে অভিযোগটি মীমাংসা হয়ে যায়। অভিযুক্ত শিশিরের বাবা সেসময় দাবি করেছিলেন, কুষ্টিয়া মডেল থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। ঐ বিষয় সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
