শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরে মেলা বাণিজ্যের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরে মেলা বাণিজ্যের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৮, ২০২৬

হিন্দোল কুষ্টিয়ার আয়োজনে নতুন বিতর্ক

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরে আবারও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি আট দিনব্যাপী মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে মেলা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটি এখন অনেকটাই একটি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পোস্টার অনুযায়ী, ঈদের পরদিন থেকে আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আট দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। জানা গেছে, এই মেলার আয়োজন করছে “হিন্দোল কুষ্টিয়া” নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনটির দায়িত্বশীলদের তালিকা ঘিরেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। জানা যায়, হিন্দোল কুষ্টিয়ার সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান দিপু, সাধারণ সম্পাদক রোকসানা পারভীন লাকি এবং সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মোঃ সুজন রহমান। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, সরকারি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিজেই তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করায় স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই মেলার ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন করা হয় ইমতিয়াজ হাসান দিপুর মালিকানাধীন ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে পুরো আয়োজনের আর্থিক কার্যক্রম একই মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি অংশ।

তাদের ভাষায়, এতে “ঘরের টাকা ঘরেই থাকে, আর বাইরের লোকজন কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকে।” এদিকে হিন্দোল কুষ্টিয়া সংগীত একাডেমি নিয়েও রয়েছে আলোচনা। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনটির একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় কালচারাল অফিসার সুজন রহমানের নিজ বাসভবনে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ভালো নম্বর বা মঞ্চে পারফর্মের সুযোগের আশ্বাস দিয়ে ওই একাডেমিতে ক্লাস করার জন্য উৎসাহ বা চাপ দেওয়া হয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন সদস্য বলেন, “কুষ্টিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

কিন্তু শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরে যদি বারবার ব্যক্তিগত স্বার্থ ও মেলা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।” তাদের দাবি, শিল্পকলা একাডেমির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সকল শিল্পীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।