নিজ সংবাদ ॥ বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুকুলে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪। শনিবার (২৭ জানুয়ারী) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার কালিশংকরপুর গুরুকুলের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে নবীন বরণ ও বিদায় উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন গুরুকুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ পলা। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন টিএসবি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের পরিচালক মোহাম্মদ সাকবার আলী, কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউট এর ইনচার্জ স্মৃতি কণা হাওলাদার এবং সমাপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন গুরুকুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী বলেন, গুরুকুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যতিক্রমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে বই থেকে জ্ঞান অর্জনের পাশা পাশি বর্তমান সমাজ সম্পর্কেও বিস্তর ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়াও শিক্ষার পাশি পাশি প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং সাংস্কৃতি সমপৃক্ততায় এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিপূর্বে যারা লেখাপাড়া শেষ করেছেন বর্তমানে তারা সুনামের সহিত দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। স্বাগত বক্তব্যকালে গুরুকুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ পলা নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সবাই একটা পরিবার। স্কুল, কলেজ শেষ করে আমরা এই টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে চার বছরের জন্য ভর্তি হয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরে কর্মসংস্থানে যাই। এই পুরা প্রক্রিয়ায় গুরুকুল তোমাদের সাথে থাকতে পেরে গুরুকুল নিজেকে ধন্য মনে করে। আমরা হয়তো তোমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারি না। কিন্তু গুরুকুল তোমাদের দিতে পারে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও চেষ্টা। লেখাপাড়ার পাশা পাশি আমাদের যতগুলো উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা তার মধ্যে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সাথে তোমরা যদি নিজেদের একটু মেলে ধরতে পারো তাহলে চার বছরে তোমরা অনেক কিছুই অর্জন করতে পারবে। এছাড়াও তিনি গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে তোমরা তোমাদের বিষয়ভিত্তিক অনেকগুলো ভিডিও গুরুকুল লার্নিং ট্রেনিং নেটওয়ার্ক, ফেসবুক ও ইউটিউবে পাবে। যেগুলো তোমাদের পড়ালেখার জন্য অনেক সহায়ক হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিদায়ী ও নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। গুরুকুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রমুখ এবং তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, আমি এই গুরুকুল প্রতিষ্ঠান করার সময় একটা আদর্শকে সামনে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত করি। সেই আদর্শ হচ্ছে গুরুকুল শুধু দক্ষতা অর্জনের কাজটি করবে না। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে যেন যে কোন কাজ তারা নিজেরা নিজেদের প্রণালীতে আবিস্কার করে আরো কম সময়ে এবং আরো কম পরিশ্রমে করতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যায়ই কিছুই করবা না কেন, পরিপূর্ণভাবে করবে। কারণ অর্ধেক কোন কাজ করলে জীবনে কিছু হবে না, সফলতা আসবে না, সুখ আসবেনা, আনন্দ আসবে না। তিনি বলেন গুরুকুলের প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ সহ আনন্দ ও নিরাপত্তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আলোচনা সভা শেষে দিন ব্যাপি গুরুকুলের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন গুরুকুল কর্তৃপক্ষ।
