মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য, নদীসংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিকতায় সমৃদ্ধ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জনপদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আপনাদের সেবার সুযোগ পাওয়া এক পরম সৌভাগ্যের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন নবাগত ইউএনও ফারজানা আখতার। গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন। ইউএনও ফারজানা আখতার বলেছেন, শিলাইদহ প্রেরণায় গড়া সৃষ্টিশীলতার বাতিঘর। যেখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছেন বহু কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আজও সেই সৃষ্টিশীল প্রত্যয়ের নীরব সাক্ষী—যেখানে শব্দে, সুরে ও চিন্তায় বাংলার আত্মা রচিত হয়েছে। ছেঁউড়িয়ায় লালনধারায় গড়া মানবিক দর্শনের পীঠভূমি, যেখানে মরমি সাধক লালন শাহ ধর্ম, বর্ণ ও ভেদাভেদ ভুলে মানবতার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দর্শন আজও আমাদের ন্যায়বোধ, সহনশীলতা ও মানবিক সমাজচিন্তার পথ দেখায়। তিনি আরো বলেছেন, গড়াই নদীঘেরা প্রকৃতির কোলে লালিত এক জনপদ কুমারখালী। যেখানে নদীকেন্দ্রিক জীবন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি কুমারখালীকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। সর্বোপরি, কুমারখালীর মানুষ যাদের সহজ সরলতা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মানসিকতা প্রশাসনিক কাজকে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করে তুলবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগই প্রশাসনের প্রকৃত শক্তি। ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই চার খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সক্রিয় সহায়তা করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী রক্ষা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসন পৌঁছে দেওয়া এসব লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের শক্তি। আপনাদের মতামত, পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কুমারখালীর উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির অর্জন নয় এটি একটি সমবেত স্বপ্ন ও সমষ্টিগত প্রয়াস। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, শক্তিশালী ও সেবামুখী কুমারখালী গড়ে তোলা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ইউএনও ফারজানা আখতার।
