রঞ্জুউর রহমান ॥ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোন তামাক কারখানাকে মৌসুমী কারখানা ঘোষণা করা হয় নাই। এমনকি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ভাদালিয়াতে অবস্থিত জাপান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডকে মৌসুমী কারখানা ঘোষণা করা হয় নাই। শুধু মাত্র ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কুষ্টিয়ার এই লীফ ফ্যাক্টরিকে মৌসুমী কারখানা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর এসআরও ২৯৪-আইন/২০০৭ এ স্পষ্টভাবে বলা আছে “তামাকও একটি কৃষি ভিত্তিক ফসল। তামাক রোপনের পর ৫/৬ মাসে পরিপক্ক হওয়ার পর মূল কাঁচামাল হিসেবে প্রক্রিয়াকরনের মাধ্যমে সেখান হতে পণ্য উৎপাদিত হতে হবে।
এই দিক বিবেচনায় তামাককেও কৃষিভিত্তিক মৌসুমী ফসল বলা যায়” তামাক বছরের একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে উৎপাদিত ফসল হওয়ায় এবং বিদ্যমান শ্রম আইনে মৌসুমী কারখানার সংজ্ঞা নির্ধারিত থাকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর কুষ্টিয়া লিফ ফ্যাক্টরীর ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে অনুসৃত হয়ে থাকলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে উহাকে মৌসুমী কারখানা হিসাবে ঘোষণা বিবেচনায় আনা যেতে পারে”। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কুষ্টিয়া লিফ ফ্যাক্টরীতে কর্মরত মৌসুমী শ্রমিকগণ কর্তৃক উপস্থাপিত বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদনে বলা হয় “ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোং লিঃ কর্তৃপক্ষ মৌসুমী কারখানা হিসেবে নিবন্ধন নিলেও বছরের অন্য সময় প্রচলিত কারখানা সমূহের মত কার্যক্রম চলমান রেখে শ্রম আইনের কিছু ধারা লঙ্ঘনসহ আরও কতিপয় বিষয়ে আইনানুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
যা তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ার এই লীফ ফ্যাক্টরি কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কুষ্টিয়া থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত। সরকারী বিধি মোতাবেক লাইসেন্স প্রতিবছর নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জুন-জুলাই নিবন্ধনের সময় পার হয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে কোন ধরনের নিবন্ধন নবায়ন করে নাই। কিন্তু এরপরও প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। অথচ এই বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার কোন মাথা ব্যথা নেই। অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অধীনে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর তিনটি জেলায় ছোট বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কারখানা কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য শ্রম আইনের ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে। কিন্তু কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের নিবন্ধনহীন।
যার চেচুয়া তামাকের ডিপোতে প্রতিদিন আনুমানিক ২’শ থেকে ৩’শ জন মহিলা কাজ করে। এই সকল মহিলাদের দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে তামাকের কাজে বাধ্য করে কোম্পানী। কুষ্টিয়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড এর চেচুয়া ও এম এল ডি এর, আর এল এম সাজ্জাদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আপনি যে প্রশ্ন করছেন তার উত্তর দেওয়ার কোন অথরিটি কোম্পানি আমাকে দেয়নি। পরবর্তীতে কোম্পানীর বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি আমাদের একটা নাম্বার দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেন নাই। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড এর কুষ্টিয়া লীফ ফ্যাক্টরি প্লান্ট ম্যানেজার মাহবুবুল আলম খান এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপমহাপরিদর্শক ফরহাদ ওহাব বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড এর বিষয়টি আমরা নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কোম্পানি যেসব দুর্বলতা রয়েছে তার জন্য আমরা কোম্পানিকে সংশোধনের সময় দিয়েছি। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোম্পানি তাদের দুর্বলতার বিষয়গুলো সংশোধন না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ হবে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দেখা হবে। অনিয়ম করে থাকলে আইন অনুযায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
