কুমারখালীতে অকেজো পরিত্যক্ত পলিথিন রিসাইকেলে করে রংবেরঙের রোল পলিথিন তৈরি
বাসাবাড়ি, হাট – বাজার, সড়কে ময়লার ভাগারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিত্যাক্ত ও অকেজো পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল প্রথমে সংগ্রহ করে বাছাই করা হয়। পরে যন্ত্রের সাহায্যে কাঁটাছেরা ও ধৌত করার পর রোধে শুকানো হয়। এরপর আবার সেগুলো কুচিকুচি করে কেটে ভূষি করা হয়। ভূষি গুলো যন্ত্রের সাহায্যে তাপ দিয়ে শক্ত দানা তৈরি করা হয়। সেগুলো দিয়ে ফিলিম মেশিনের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন রঙের ব্যবহার উপযোগী রোল পথিথিন। এগুলো প্যাকেটিং করে বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

কুমারখালীতে অকেজো পরিত্যক্ত পলিথিন রিসাইকেলে করে রংবেরঙের রোল পলিথিন তৈরি
পলিথিন রিসাইকেলের কারখানাটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের খয়েরচারা এলাকায় অবস্থিত। সেখানে নানাবয়সি প্রায় অর্ধশত নারী – পুরুষ কাজ করছেন। অবস্থান ভেদে তাঁরা মাসিক বেতন পান সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণমুক্ত হচ্ছে। রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থান। সেখানে প্রতিমাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার কেজি পলিথিন রিসাইকেল করা হচ্ছে। অকেজো পলিথিন ২০ টাকা কেজি দরে কিনে রিসাইকেল করে প্রতিকেজি পলিথিন বাজারে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১২০ টাকা।
জানা গেছে, রিসাইকেল কারখানাটি কুমারখালী পৌরসভার খোকনমোড় এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. রবিউল ইসলামের ( ৪০)। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। চাকুরি ছেড়ে তিনি ২০২২ – ২৩ অর্থবছরে বাটিকামারা এলাকায় পলিথিন রিসাইকেলের কাজ শুরু করেন।
শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সংগ্রহ করা পরিত্যাক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল গুলো নারীরা বাছাই ও শুকানোর কাজ করছেন। আর পুরুষরা যন্ত্রের সাহায্যে অন্যান্য কাজ করছেন।

এসময় নারী শ্রমিক জহুরা খাতুন বলেন, তিনি আগে বাড়িতে অলস সময় কাটাতেন। বর্তমানে তাঁর স্বামী ও ছেলের সাথে তিনিও কারখানায় কাগজ বাছাই ও শুকানোর কাজ করেন। তিনি প্রতিদিন ২৫০ টাকা আয় করেন।
আত্তাফ শেখ নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আগে তিনি রোদে পুড়ে – বৃষ্টিতে ভিজে দিনমজুরের কাজ করতেন। এখন ওই কোম্পানিতে মাসিক সাড়ে ৯ হাজার টাকা বেতনে যন্ত্রের সাহায্যে কাগজ কাটার কাজ করেন। তা দিয়ে ভালভাবে তাঁর সংসার চলছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে এধরনের কোম্পানি বেশি বেশি তৈরি হলে কর্মসংস্থান বাড়বে।
আব্দুল আহাদ নামে একজন বলেন, তিনি কুমারখালী সরকারি কলেজে সম্মাননা বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে দানা তৈরির কাজ করেন। প্রতিমাসে তিনি ১৩ হাজার টাকা বেতন পান।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম কাজল বলেন, তারা প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ হাজার কেজি পরিত্যাক্ত পলিথিন রিসাইকেল করছেন। এতে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশের দূষণ দুর হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষে চাকুরি ছেড়ে রিসাইকেল প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। এটি পরিবেশ বান্ধব। তাঁর প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট কমানো হলে তিনি লাভবান হবেন এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা বড় করতে পারবেন।

বিশিষ্ট গবেষক ও পরিবেশবিদ গৌতম কুমার রায় বলেন, ঘর থেকে বের হলেও চোখে পড়ে পরিত্যাক্ত পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা পরিবেশ ক্ষতিকর জিনিসপত্র। যেহেতু সেখানে পরিত্যাক্ত পলিথিন সংগ্রহ করে রিসাইকেল করা হচ্ছে, সেহেতু অবশ্যয় এটি পরিবেশবান্ধব। কিছুটা হলেও পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে। তাঁর দাবি, পরিবেশ রক্ষায় বেশি রিসাইকেল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল বলেন, তিনি কারখানাটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। এটি একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। পরিবেশ বান্ধব সকল কাজের সঙ্গে প্রশাসন আছে।
