নিজ সংবাদ ॥ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ সময় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে এ বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দাম বাজার এলাকায় থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখান থেকে মিছিলটি পাঁচ রাস্তার মোড় যায়। সেখানে সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে। সেখানে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার সমন্বয়করা। কর্মসূচি থেকে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার দাবিও জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।
ফ্যাসিজমের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখনো আছেন। তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কারণ ৫ আগস্টের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। দুই মাস যেতে না যেতেই এখন এমন এক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এই বক্তব্য দেওয়া মানে আমাদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা। আমরা চাই, অনতিবিলম্বে তাকে যেন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করানো হোক এবং তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় বিচারের আওতায় আনা হোক। তারা আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি পাননি বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। পদত্যাগপত্র পাননি, এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং এটা হচ্ছে ওনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল।
কারণ, তিনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন। তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করার পাশাপাশি স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়েছেন। তাই তিনি এই পদে থাকতে পারেন না। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একইসাথে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার অন্যতম সমন্বয়ক তৌকির আহমেদ, সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান সহ জেলা, উপজেলা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ক, সাধারণ শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
