জীবন সংগ্রামী নারী রাজমিস্ত্রী রমেছা খাতুন, ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হাজারো রমেছা
জীবন সংগ্রামে নিজেকে তৈরি করেছে এক কঠোর পরিশ্রম মানুষ হিসেবে। পুরুষের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে রাজমিস্ত্রী ও রডমিস্ত্রির কাজ করছে ১০ বছর ধরে। গ্রামের মানুষ তাকে চিনে রমেছা নামে। চল্লিশ বছরের এই নারী রাজমিস্ত্রী ও রডমিস্ত্রি কাজ করে সংসার চালান গত ১৯ বছর ধরে। এই কাজের আগে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। অল্প বয়সে বিয়ে হয় রমেছার’ বিয়ের ৫ বছরের মাথায় তার স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ে সন্তান নিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। সংসার চালাতে শুরু করে দিন মুজিরীর কাজ।

জীবন সংগ্রামী নারী রাজমিস্ত্রী রমেছা খাতুন, ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হাজারো রমেছা
বুধবার দুপুরে কুমারখালী শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু ড্রেন নির্মাণ এর কাজ করছিল, রোদের মধ্যে কাজ করতে দেখে তার সাথে কথা হয়। পুরুষের তুলনায় নারীদের মুজুরীর বৈষম্য দূর করা সম্ভব হচ্ছে না এখনো। রমেছা যে পরিমাণ পরিশ্রম করে ঠিক সেই পরিমাণ পরিশ্রম পুরুষ রাজমিস্ত্রী করে। কিন্তু! রমেছা মুজুরী পাচ্ছে দেড় শ’টাকা কম পুরুষ রাজমিস্ত্রীর থেকে।
জীবন সংগ্রামী নারী রমেছা কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গ্ৰামে আব্দুল হাকিম এর মেয়ে ।সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। চলার পথে হাজার বাধা বিপত্তি মধ্যেও নিজের পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর ধরে।
রাজমিস্ত্রী রোকন বলেন, আমাদের চাইতে রমেছার এই কাজে অভিজ্ঞ বেশি সে অনেক ভালো মনের মানুষ। রমেছা কাজে কোন ফাঁকি দেয়না। বরং আমরা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। তবে আমাদের চাইতে প্রায় ১ থেকে দেড়শো টাকা কম পায় মুজুরী।
মহিলা নেত্রী হোসনে আরা রুবি বলেন, নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এই দেশে অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। আমরা নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নারী পুরুষের মুজুরীর বৈষম্য দূর করতে হলে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।
![]()
কথা হয় রমেছার’ সাথে তিনি বলেন, পরিবারের হাল ধরতে আমাকে এই কাজ করতে আসতে হয়েছে। এই কাজ করতে এসে অনেক মানুষের মন্দ কথা শুনতে হয়। কেউ বলে মেয়ে- ছেলে মানুষ বাসা বাড়িতে কাজ করতে পারোনা। আবার অনেক মানুষ বলে মহিলা মানুষ কি’ কাজ করতে পারবে। কিন্তু আমি পুরুষ মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করি। রাজমিস্ত্রী ও রডমিস্ত্রি কাজে অভিজ্ঞ আমি, মহিলা বলে এখনো আমাদের সঠিক মজুরি পাইনা এক জন মেয়ে ইচ্ছে করলে সব কাজ শিখতে পারে। প্রতিটা অসহায় নারী সমাজের বোঝা না যে কোন কাজে আসতে পারে।
