বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৩
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

২২শে শ্রাবন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস। মহাকালের চেনাপথ ধরে প্রতিবছর বাইশে শ্রাবণ আসে। এই বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবী ভক্তদের কাছে একটি শূন্য দিন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্য সাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন সেই পরমার্থের সাথে তিনি লীন হয়েছিলেন এদিন। রবীন্দ্র কাব্যে মৃত্যু এসেছে বিভিন্নভাবে। জীবদ্দশায় মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন বারবার। কাব্য কবিতায় মৃত্যু বন্দনা করেছেন তিনি এভাবে-‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান’। জীবনের শেষ নববর্ষের সময় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন তাঁর কলমে রচিত হয়েছিল ‘সভ্যতার সংকট’ নামের অমূল্য লেখাটি। তারও ক’দিন পর ১৯৪১ সালেরই ১৩ মে লিখে রাখলেন, রোগশয্যায় শুয়েই ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’।

দিন টি উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার ( ৬ আগষ্ট) বিকেলে শিলাইদহের কবির স্মৃতিবিজড়িত রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি চত্বরে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বকুল তলায় ” বঙ্গবন্ধু, কবিগুরু ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ” শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস পালিত

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার রায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত, থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম, কবি, সাহিত্যিক ও ছড়াকার সোহেল আমিন বাবু, কবি আব্দুস সাদিক, কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাসসহ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘ বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন দেশ ও মাটি এবং স্বাধীন ভূখণ্ড। আর কবিগরু দিয়েছেন মনের খোরাক। বঙ্গবন্ধু, কবিগুরু ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত একই সুত্রে গাঁথা। রবীন্দ্রনাথের গান মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরিত করেছিল। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সমাজ সংস্কারক ও প্রজাভক্ত। তাঁর সৃষ্টিকর্ম কাল থেকে কালান্তরে পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ করবে সারা বিশ্বকে।’

তাঁরা বলেন, ‘ বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস এভাবে নিরবে, নিভৃতে চলে যেতে পারেনা। কবির জন্মোজয়ন্তীর ন্যায় মহাপ্রয়াণ দিবসটিও জাতীয়ভাবে উচ্চস্বরে, জেগেসেরে পালন করতে হবে। ‘

১৩৪৮ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশনগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও নাটক প্রচার করবে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে এবং ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

কালজয়ী এ কবি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে “গুরুদেব”, “কবিগুরু” ও “বিশ্বকবি” অভিধায় ভূষিত করা হয়।

১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়। তিনি ১৯১৩ সালে তার গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভূত সাহস যোগায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শুধু নয়, চিরকালই কবির রচনাসমূহ প্রাণের সঞ্চার করে।