মৃত ছেলের বউয়ের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ শাশুড়ীর বিরুদ্ধে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মৃত ছেলের বউয়ের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ শাশুড়ীর বিরুদ্ধে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২২, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় মৃত ছেলের বউয়ের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত ছেলের রেখে যাওয়া মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া এবং ছেলের বউয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বায়না করে সেই জমি অন্য ছেলে-মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন শাশুড়ী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চাপাইগাছি গ্রামে। ভুক্তভোগী মৃত ছেলের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস সোনালী জানান, তার স্বামী আব্দুল হামিদ রাজশাহী রাজাবাড়ী সরকারি হাট ডেইরি খামারের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালে মারা যান। স্বামী জীবিত থাকাকালে কুমারখালীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ক্রয় করেন।

স্বামী মৃত্যুর পর তার শাশুড়ী জাহানারা বেগম অন্যান্য সন্তানদের সহায়তায় মৃত ছেলের অর্জিত সম্পত্তির ভালো অবস্থানের অংশগুলো প্রায় ৫৭ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমির ভালো অংশ বিক্রিতে বাধা দিলে শাশুড়ী, দেবর ও ননদ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধরের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে কুমারখালী থানায় একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও তিনি কোনো সুবিচার পাননি। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের জুন মাসে শাশুড়ী ২০ শতাংশ জমি বিক্রির শর্তে তার কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বায়নানামা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই জমি তাকে না দিয়ে ২০২৫ সালের শেষ দিকে তার দেবর রশিদুল আলম ও ননদ সাবিনা ইয়াসমিনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। জান্নাতুল ফেরদৌস সোনালী বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ শাশুড়ীর নামে দিতে দেবর স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চাইলে তিনি রাজি হননি।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাশুড়ী বায়নাকৃত জমি দেবর ও ননদের নামে লিখে দেন বলে তার দাবি। স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, জাহানারা বেগম জান্নাতুল ফেরদৌস সোনালীর কাছ থেকে জমি বিক্রয়ের কথা বলে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে বায়না করলেও পরে সেই জমি তার ছোট ছেলে ও মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তাদের দাবি, এ পর্যন্ত মৃত ছেলের জমি প্রায় ৫৭ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেবর, দয়ারামপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক রশিদুল আলম বলেন, তার ভাই সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। ভাই মারা যাওয়ার পর সরকারি তহবিল থেকে এককালীন টাকার যে অংশ তার মা পাওয়ার কথা, সেটি বুঝিয়ে দিলে তারা জমি ফেরত দিতে রাজি। ভাবীকে গালিগালাজ বা বাড়িতে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অভিযোগের বিষয়ে শাশুড়ী জাহানারা বেগমের বক্তব্য জানতে চাইলে দেবর রশিদুল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেন।