মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৩
মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা

৫ আগস্ট ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের এঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। পালন করা হয় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী।

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা

শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্ত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক মঞ্চে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচী শুরু করে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা। এরপর পর্যায়ক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব’র নেতৃত্বে জেলা পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যবৃন্দ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা কৃষিবিদ ইনন্সিটিউশন বাংলাদেশ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সামাজিক বন বিভাগ কুষ্টিয়া’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সড়ক বিভাগ কুষ্টিয়া’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কুষ্টিয়া’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহ জেলা প্রশাসনের আওতাধীন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দো’আ ও মোনাজাত করা হয় এবং কালেক্টরেট চত্ত্বরে স্থাপতি বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা ও পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব’র নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ । এছাড়ও কালেক্টরেট চত্ত্বরে গাছের চারা রোপন করা হয় ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) শারমিন আখতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসরিন বানু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) আবদুল ওয়াদুদ, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আর এম শাখা এবং এল এ শাখা) মেহেদী ইসলাম, সহকারী কমিশনার (প্রশিক্ষণরত) জিল্লুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার ও প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা) সিফাতুন নাহার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা এবং জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা) কাজী শারমিন নেওয়াজ, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা ও আইসিটি শাখা) স্বরূপ মুহুরী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা) তানভীর হায়দার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রেকর্ডরুম শাখা ও ই- সেবা শাখা) ঈষিতা আক্তার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ( ট্রেজারী ও স্ট্যাম্প শাখা, গোপনীয় এবং নেজারত শাখা) শাহেদ আরমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশিক্ষণরত) মহসীন উদ্দীন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশিক্ষণরত) আদিত্য পাল, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশিক্ষণরত) সৈয়দা আফিয়া মাসুমা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশিক্ষণরত) রাহাতুল করিম মিজান এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশিক্ষণরত) তাফসীরুল হক মুন সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাইদুর রহমান।

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি সেই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো : ডিসি এহেতেশাম রেজা

পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব’র নেতৃত্বে জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এ্যান্ড অপস) পলাশ কান্তি নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু রাসেল, ডিআইও (১) কুষ্টিয়া, আরওআই এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আশিকুর রহমান সহ জেলা পুলিশের অফিসার ফোর্সগণ।

এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯ টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে কুষ্টিয়া শিল্পকলা মিলনায়তনে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা’র আয়োজন করা হয় ।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব, কুষ্টিয়ার চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রি এর সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আ স ম আখতারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রফিকুল আলম টুকু, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমিন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু ।

স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব বলেন- শেখ কামাল ১৯৪৯ সালে জন্ম গ্রহনের দুই মাস দশ দিন পরে বঙ্গবন্ধু জেলে যান। ফিরে এসেছিলেন আরো তিন বছর পরে। ক্ষণজন্মা শেখ কামাল বেঁচে ছিলেন মাত্র ২৬ বছর। ২৬ বছরের অনেকটা সময় বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন, বিভিন্ন কাজে বিদেশে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময় পিতাকে না পাওয়ার কারণে, তিনি কিন্তু কোনক্রমেই আদর্শ বিচ্যুৎ হননি। তারপরেও তার যে বেড়ে ওঠা, মানুষ হিসাবে তার যে উন্নত আচরণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা সবকিছুই কিন্তু শিখে ছিলেন। আজকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সঠিক ইতিহাস না জানা এবং জানতে না দেওয়ার যে ধারাবাহিকতা, সেগুলো থেকে আমরা অনেকগুলো বছর বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু মাঝখানে একটি প্রজন্ম তৈরি হয়ে গেছে, যারা শেখ কামালদের কথা জানে না, মুক্তিযুদ্ধের কথা জানে না, সঠিক ইতিহাস জানে না। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা যতদিন বেঁচে আছে আমরা ততদিন তাদের কাছ থেকে শুনবো এসব গল্প। এটা আমাদের সৌভাগ্য যে, আমাদের প্রজন্ম এখনো তাদেরকে (মুক্তিযোদ্ধাদের) পাচ্ছে। আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম হয়তো তাদেরকে পাবে না। ইতিহাস সংরক্ষণ এবং তার শিক্ষা দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব। আমরা যদি শেখ কামাল এঁর গুণের কথা বলি তাহলে অনেক বিষয় আসবে। তিনি চমৎকার ফুটবলার ছিলেন, ভালো ক্রিকেট খেলতেন, বাসকেট বলও খেলতেন। ছোটবেলা থেকেই যখন গ্রামে ছিলেন, তখন তার ফুটবলে ভালো দক্ষতা ছিলো। ঢাকা’য় আসার পরে আরো খেলাধুলা করেছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে শেখ কামাল এঁর অবদান অপরিসীম। মুক্তিযদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে ফুটবল এবং ক্রিকেট ছাড়া কিছুই ছিলো না, ক্রীড়া ক্ষেত্রের সাংগঠনিক কোন কাঠামোই ছিলো না। শেখ কামাল আবাহনী ক্লাবকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে আবাহনী ওয়েলফেয়ার ক্লাব ছিলো, পরবর্তিতে আবাহনী ক্লাব লিমিটেড হয়। এখান থেকেই আসলে বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিলো। এখানে হকি’র ব্যবস্থা, ক্রিকেটের ব্যবস্থা ছিলো, সবধরনেই খেলাধুলার ব্যবস্থায় ছিলো। নিজে যেমন খেলতেন, খেলাধুলাকে পছন্দ করতেন, আমাদের ক্রীড়া সেক্টরকেও তিনি সেভাবে উন্নত করে গেছেন। শুধু মাত্র আবাহনী ক্লাব নয়, অন্যান্য ক্লাবের খেলাতেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি খেলার বাইরেও চমৎকার সেতার বাজাতেন, ভালো গানও গাইতেন এবং নাট্যকলার ক্ষেত্রে তার অবদান অপরিসীম। তিনি ঢাকায় থিয়েটারও করেছিলেন এবং পরবর্তিতে স্পন্দন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একজন মানুষ এত কিছু নিয়ে এত অল্প সময়ে কিভাবে কাজ করেছেন। সবকিছুই করেছেন মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে। ঐ সময় যে প্রজন্মটা ছিলো উনি তাদের দিকে খেয়াল রেখেছেন। ভালোবাসা তো ভেতর থেকে আসতে হয়, সেটা ছিলো তার ভেতরে। সব কিছু মিলিয়ে যে বিষয়টা আসে, সেটা হলো নেতৃত্ব। নেতৃত্বের যে গুণাবলী, সবাইকে নিয়ে চলা। সেটা ক্রীড়া ক্ষেত্রে, শিল্পক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে । দেশের মানুষকে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবেসে সত্যিকার অর্থেই একজন নেতা হিসাবে তৈরি হয়েছিলেন তিনি। আমাদের দূর্ভাগ্য যে তাঁর মত নেতাকে ৭৫-এ ঘাতকের হাতে নির্মম হত্যাকান্ডের কারণে তাকে হারাতে হয়েছে। শেখ কামাল বেঁচে থাকলে দেশ আরো ৫০ বছর এগিয়ে থাকতো ।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আলোচনা সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আমি নিজে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এবং তোমরাও অত্যন্ত সৌভাগ্যবান বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ আজকের আলোচনায় মূল যে কথাটি আছে ”স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা সভা”। স্মৃতিচারণ তারাই করতে পারে, যারা ঐ সময়ে জীবিত ছিলো এবং যেই ব্যক্তির স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে তার সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলো। সেই দিক থেকে আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, শেখ কামালের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত এবং তার বাড়ীতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন অনেকেই আমাদের মাঝে জীবিত আছেন। তারা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তার চরিত্রের যে দিকগুলো রয়েছে, এখানে উল্লেখ করেছেন। অথচ একটি মহল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তমূলক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। সেটি আজকে এখানে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে যে, একজন রাষ্ট্র প্রধানের ছেলে হয়েও সে কত সরল জীবন যাপন করতো, সে কতো সামাজিক ও মিশুক ছিলো । তার প্রতিটি কর্মকান্ডে সেটি প্রতিফলিত হয়েছে। এই স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা যদি আরো বেশী ছাত্রছাত্রী নিয়ে করা যেত তাহলে আরো বেশী ফলপ্রসু হতো। আজকে আমরা যেভাবে জানতে পেরেছি, বই পড়ে সরাসরি এইভাবে উপলব্ধি করা যায় না।

জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা আরো বলেন, যারা যে পেশায় নিয়োজিত আছে, সে যে পেশাই হোক, পরিচ্ছন্ন কর্মি থেকে শুরু করে সকল স্তরের। আমরা যদি আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি তাহলে দেশপ্রেম পালন করা হবে। শেখ কামাল তার জীবনে ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে নিয়োজিত ছিলো। শেখ কামাল এঁর যে কর্মকান্ডগুলো ছিলো, সেগুলো আমরা হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের কর্মকান্ডগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে এগুলো অনুসরণ করবো। শেখ কামাল একজন রাষ্ট্র নায়কের ছেলে হয়েও দেশ প্রেমে নিয়োজিত হয়ে নিজেকে যেভাবে বিসর্জন করেছে তা আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। এই শিক্ষায় আমরা শিক্ষিত হবো এবং আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড এভাবেই পরিচালনা করবো ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা আরো বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আমরা এখন থেকেই আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান এখন থেকেই উন্নিতকরণ করবো। প্রধানমন্ত্রীর যে ভিষন, ২০৪১ অর্জনে মূলত তোমরাই চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করবে। তোমরা নিজেদেকে সেভাবে প্রস্তুত করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে ভবিষ্যতের সোনার বাংলাদেশ গঠনে সচেষ্ট থাকবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, যে পতাকা অর্জন করেছি এই পতাকার মান আমরা বজায় রাখবো ।

স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে গাছে চারা বিতরণ করেন পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব এবং জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা। পরবর্তিতে বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ।

আরও পড়ুন: