নিজ সংবাদ ॥ বোরো মৌসুমের শুরুতে কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে চালের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জেলা প্রশাসন সরু চালের দাম ৬৪-৬৫ টাকা কেজি বেঁধে দিয়েছিল। তবে দুই সপ্তাহ আগেও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। মৌসুমের শেষে এসে সে অস্থিরতা কমতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে কমছে দাম। এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৩ টাকা কেজি। পাশাপাশি বাসমতি, আঠাশ, স্বর্ণা, জিরাশাইল ও কাজললতা বিক্রি হচ্ছে আগের থেকে কমে। তবে খুচরা পর্যায়ে এখনও দাম না কমায় সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। মিল মালিকরা বলছেন, মিলগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, ধানের বাজারে দাম কমে আসা ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের মজুত বেশি রয়েছে। এতে চালের দাম কমে আসছে বলে মনে করছেন তারা। কৃষকদের ঘরে ধান থাকা অবস্থায় চাল ও ধানের দাম আপাতত বাড়বে না বলেও জানান মিলাররা। এর আগে চলতি মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত চালের বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল চাল। গত মঙ্গলবার কথা হয় মিয়া অটো রাইস মিলের মালিক জয়নাল আবেদিন প্রধানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সরু ধানের তুলনায় মাঝারি ও মোটা ধানের দাম কমেছে বেশি। এ কারণে চালের বাজারেও দাম আগের তুলনায় কমেছে। গতকাল মিল গেটে বাছাইকৃত সরু চাল মানভেদে প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৬৩ টাকায়। এর থেকে কমেও বিক্রি হয়েছে কোনো কোনো মিলে। দু-একটি মিলে ৬৩ টাকার বেশিও বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বেশির ভাগ মিলগেটে কম দামে চাল পাওয়া যাচ্ছে। একই মানের চাল দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা কেজি। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছিল ৩ হাজার ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এখন মিল গেটে বাসমতি চাল প্রতি কেজি আগের থেকে ১ থেকে ২ টাকা কমে ৭০ থেকে ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরাশাইল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকায়। আগে দর ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। এ ছাড়া পাইজাম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৬ থেকে ৪৭ টাকায়। আগে ছিল ৫০ টাকার কাছাকাছি। এ ছাড়া মোটা জাতের স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। দু’সপ্তাহ আগেও এ চাল ছিল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা। বোরো মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হয়েছে জানিয়ে ওয়াদী রাইস মিলের মালিক ওমর ফারুক বলেন, প্রথম দিকে কাঁচা ধানের দাম বেশি ছিল। তা থেকে চাল তৈরি করে গড়ে এক থেকে দুই কেজি চাল কম পাওয়া যাচ্ছিল। এখন শুকনো ধান থেকে চাল তৈরি করে বেশি লাভ হচ্ছে। পরিমাণেও বেড়েছে। এসব কারণে মিল মালিকরা কিছুটা দাম কমিয়ে বিক্রি করছেন। ধানের দাম কমলে চাল কেজিতে আরও ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কমে আসবে। এদিকে মিল গেটে চালের দাম কমলেও বাজারের অনেক খুচরা ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পৌর বাজারে চাল কিনতে আসা আতিয়ার রহমানের। তিনি বলেন, মিল গেটে সরু চাল মান ভেদে ৬৩ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকার কাছাকাছি। দামে ৭ টাকার পার্থক্য। অথচ খাজানগর থেকে এক বস্তা (২৫ কেজি) চাল শহরে আনতে কেজিতে ১ টাকার মতো খরচ হয়। বাসমতি চালও মিল গেটের তুলনায় বাজারে খুচরা পর্যায়ে অন্তত ৮ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে মিল গেটের তুলনায় খুচরায় চাল কিনে ঠকছেন ক্রেতারা। দাম কমার সুফল ব্যবসায়ীরা ভোগ করলেও ভোক্তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের। তবে খুচরা পর্যায়ে মোটা চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। আগের চাল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেন শহরের সাদ্দাম বাজার মোড় এলাকার রাশেদ স্টোরের মালিক রাশেদুল হক। তবে নতুন চাল কমে বিক্রি করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মিলগেটে নতুন চালের দাম কমায় ভোক্তারা ধীরে ধীরে সুবিধা পাচ্ছেন। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিল মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে জানিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. এহেতেশাম রেজা বলেন, তারা বলেছেন চাল আগের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন। তবে ধানের দাম যে পরিমাণ কমেছে, সে পরিমাণে চালের দাম কমেছে কিনা, তা যাচাই করে দেখা হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মজুত ও সিন্ডিকেট করলে তাৎক্ষণিক গুদাম সিলগালাসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
