মিরপুর উপজেলা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কুষ্টিয়া জেলার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলো মিরপুর। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মিরপুর উপজেলার রয়েছে অনন্য গুরুত্ব। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির ছায়ায় ঘেরা এই অঞ্চলটি একদিকে যেমন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য পরিচিত, অন্যদিকে এর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। কুষ্টিয়া শহরের নিকটবর্তী এই উপজেলা আধুনিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ জীবনের এক চমৎকার মিশ্র চিত্র উপস্থাপন করে।

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন
মিরপুর উপজেলা: বিস্তৃত পরিচিতি
📍 ভৌগোলিক অবস্থা ও সীমানা
- আয়তন: ৩১৭.৩৫ বর্গকিমি
- অবস্থান: ২৩°৪৫´–২৪°০০´ উত্তর অক্ষাংশ, ৮৮°৫০´–৮৯°০৬´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
- সীমান্ত:
- উত্তরঃ ভেড়ামারা ও ঈশ্বরদী
- দক্ষিণঃ আলমডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া সদর
- পূর্বঃ কুষ্টিয়া সদর
- পশ্চিমঃ দৌলতপুর, গাঙ্গনী ও আলমডাঙ্গা
👥 জনসংখ্যা ও জনগোষ্ঠী
- মোট জনসংখ্যা (২০০১): ২৮৫,০৮৯
- পুরুষ: ১৪৬,৬৩৬
- মহিলা: ১৩৮,৪৫৩
- ধর্মীয় বিভাজন:
- মুসলিম: ২৭৮,৭৫৭
- হিন্দু: ৬,২৫২
- অন্যান্য (নাগরিক ও আদিবাসী): ৮০
- অতিভুক্ত জনগোষ্ঠী: কোল ও বুনো আদিবাসীরা লিপ্ত
🌊 জলাশয় ও পরিবেশ
- প্রধান নদী ও খাল: পদ্মা, কুমার ও গড়াই নদী এবং সাগরখালী খাল
🏛️ প্রশাসন
- থানা প্রতিষ্ঠা: ১৮৮৫
- উপজেলায় উন্নীত: ১ আগস্ট ১৯৮৩
🕌 ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
- মসজিদ: ২৮০
- মন্দির: ১৮
- মাযার: ১
- ফলপ্রধান প্রতিষ্ঠান: আল মোশাররফ জামে মসজিদ, বহুবাড়ীয় পুরাতন জামে মসজিদ, পোড়াদহ বাবুপাড়া মন্দির, মিরপুর পৌর মন্দির ও আবদুর রহমানের মাযার
🎓 শিক্ষা
- সার্বিক শিক্ষার হার: ৩৭.১% (পুরুষ: ৩৯.২%, মহিলা: ৩৪.৯%)
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
- কলেজ: ১২
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ৩৩
- প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১২৪
- স্যাটেলাইট স্কুল: ৩
- মাদ্রাসা: ৯
- মক্তব: ৩০
- প্রতিষ্ঠিত মূল প্রতিষ্ঠান:
- মিরপুর মাহমুদা চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ (১৯৮৬)
- মিরপুর ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৯)
- আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৮৯৯)
- মিরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৩)
- পোড়াদহ হাইস্কুল (১৯২৭)
- মিরপুর সরকারি পাইলট বালিকা বিদ্যালয় (১৯৮৩)
🎭 সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম
- প্রকাশনা:
- মাসিক: অরুণোদয়
- সাময়িক: প্রতিধ্বনি
- সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান:
- লাইব্রেরি: ৬
- মহিলা সংগঠন: ৭
- সিনেমা হল: ১
💰 অর্থনীতি ও কৃষি
- আয়ের উৎস:
- কৃষি: ৬৬.৫৪%
- অকৃষি শ্রমিক: ২.৯০%
- শিল্প: ১.০৮%
- ব্যবসা: ১৩.২৩%
- পরিবহন ও যোগাযোগ: ৩.৩৫%
- চাকরি: ৪.৭৫%
- নির্মাণ: ১.২৯%
- ধর্মীয় সেবা: ০.১৭%
- রেন্ট ও রেমিটেন্স: ০.৩৬%
- অন্যান্য: ৬.৩৩%
- ভূমি মালিকানা: ভূমিমালিক: ৫৩.৭৬%, ভূমিহীন: ৪৬.২৪%
- শহরে কৃষিজমি: ৩৮.৬২% পরিবার
- গ্রামে কৃষিজমি: ৫৫.৩৪% পরিবার
বিষয়ক ফসল: ধান, গম, পাট, আখ, আলু, তামাক, সরিষা, পান, সূর্যমুখী ফুল
বিলুপ্ত ফসল: তিসি, তিল
ফলমূল: আম, জাম, কলা, কাঁঠাল
🐟 পশুপালন ও মৎস্য
- মৎস্য খামার: ৩৫
- গবাদিপশু খামার: ৯
- হাঁস-মুরগির খামার: ৫
- হ্যাচারি: ৪
🚗 যোগাযোগ ব্যবস্থা
- পাকা রাস্তা: ১০৬.৭৯ কিমি
- আধা-পাকা রাস্তা: ১১২.২ কিমি
- কাঁচা রাস্তা: ৪৪২.৫৪ কিমি
- রেলপথ: ৩৫ কিমি ও ১টি রেলস্টেশন
- নৌপথ: ১.০৭ নটিক্যাল মাইল
বিলুপ্ত বাহন: পাল্কি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি
🏭 শিল্প ও কুটিরশিল্প
- কলকারখানা: রাইসমিল, কটন মিল, সুগারমিল, বিড়ি কারখানা, ওয়েল্ডিং কারখানা
- কুটিরশিল্প: স্বর্ণ ও লৌহশিল্প, তাঁতশিল্প, বাঁশ ও বেতের কাজ, কাঠের কারুকার্য
🛍️ হাটবাজার ও মেলা
- হাটবাজার: ১২ (মিরপুর পশুর হাট, খাদিমপুর হাট, পোড়াদহ কাপড়ের হাট)
- মেলা: ৩ (হাজারহাটি বৈশাখী মেলা)
- প্রধান রপ্তানিদ্রব্য: তামাক, পাট, পান
⚡ বিদ্যুৎ ও পানীয়জল
- বিদ্যুৎ সংযোগ: উপজেলা বর্তমানে পল্লিবিদ্যুতায়নে অন্তর্ভুক্ত, তবে মাত্র ২৯.৫৫% পরিবার বিদ্যুত ব্যবহার করেন
- পানীয়জলের উৎস:
- নলকূপ: ৯৪.০৪%
- ট্যাপ: ০.৪৮%
- পুকুর: ০.২১%
- অন্যান্য: ৫.২৭%
🚽 স্যানিটেশন
- স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন: ৩৪.১২% পরিবার (গ্রামে ৩২.২০%, শহরে ৫২.৫০%)
- অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন: ৩৬.৪১% (গ্রামে ৩৬.৬১%, শহরে ৩৪.৪৩%)
- কোনো ল্যাট্রিন নেই: ২৯.৪৭%
🏥 স্বাস্থ্যসেবা
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১
- ক্লিনিক: ১৩
- পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র: ১০
🌪️ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইতিহাস
মিরপুরে বহু বছরের বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সাইক্লোন আঘাতে জনজীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে (১৮২৩–১৯৭১)। বিশেষত ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ব্যাপক হতাহতি ঘটে।

মিরপুর উপজেলা তার বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক গুরুত্বের জন্য কুষ্টিয়ার অন্যতম প্রাণবন্ত ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল। উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট সম্ভাবনাময়।