মিরপুর ইউএনওর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুর ইউএনওর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ফেসবুক লাইভে খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত বলেন, গত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি তার নিজ উপজেলা মিরপুরে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে সময় মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউএনও’র কিছু কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি সরাসরি অবগত হন।

পরবর্তীতে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ বর্তমান জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। নিশাত জানান, প্রায় তিন দিন আগে জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেউ যেন কোনো ধরনের চাঁদা আদায় না করে। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে মিরপুর উপজেলার বর্তমান ইউএনও উপজেলার প্রতিটি সার ডিলারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও তিনি দাবি করেন, রমজান মাসের আগে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত শুকনা খাবার নিরপেক্ষভাবে বিতরণ না করে মিরপুর উপজেলার জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মেম্বারদের সিল ও স্বাক্ষর গোপনে নিয়ে ইউএনও নিজেই ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং নিজেই বিল উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ছাত্রদল নেতা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিসি ক্যমেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করেও নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত বলেন, “দেশ গঠনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশনায়ক তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।” একই সঙ্গে তিনি জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রতি বছরের ন্যায় ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সারা দেশে দুইবার করে এলআর তোলা হয়। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়, তবে এখানে কোনো ধরনের জোর বা বাধ্যবাধকতা নেই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, এ ধরনের কোনো ফেসবুক লাইভ সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং বিষয়টি তিনি দেখেনওনি। তিনি বলেন, বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে উপজেলা আমিরের সঙ্গে কথা বললে হয়তো বিস্তারিত জানা যেতে পারে। এদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির খন্দকার রেজাউল করিম বলেন, ইউনিয়নে শুকনা খাবার বিতরণের ক্ষেত্রে উপজেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও প্রমাণবিহীন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, “আমি পুরো ভিডিওটি দেখার সুযোগ পাইনি। তাছাড়া নিশাত নামের কাউকে আমি সেভাবে চিনি না। তবে যেই অভিযোগ করুক না কেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে।” স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের জন্য এখন জেলা প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।