বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মেটন বুরাপাড়ায় বিএনপি ও জামায়েত কর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঐ ঘটনায় জামায়েত ৩৫ জনের উপরে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবিদ হাসান জিসান বলেন, আহত অবস্থায় তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, মিরপুর উপজেলার বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা নিয়ে বিদ্যালয়ে মিটিং চলছিল। কমিটির আহ্বায়ক প্রার্থী ছিলেন আমলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নাসিম রেজা মুকুল ও স্থানীয় বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন। জামায়াতের নেতা মুকুল হোসেন প্রার্থী হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বিএনপি নেতা নাসির ও তার লোকজন। কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে রোববার বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩৫ জন আহত হন। আহতরা বলেন, স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপি নেতা নাসির আমাদের ওপর হামলা করেছে। হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাসির ও তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সোজা উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মুকুল হোসেনকে বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রার্থী করা হয়। সে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও স্কুলের সভাপতি প্রার্থী নাসির বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন।
এর প্রতিবাদে স্কুল মাঠে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নাসিরের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এতে আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও স্কুলের সভাপতি প্রার্থী নাসির উদ্দিন এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে জামায়াত নেতারা দাবি করছে, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সভাপতি হওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে তার নাম জমা দিলে স্থানীয় বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন তার নাম তুলে নেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল।
যার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি’র সঙ্গে মিমাংসার জন্য একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ঠিক এই সময় উক্ত জামাতের মিমাংসা সভার উপরে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতা নাসিরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে জামাতের অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন নেতা কর্মী আহত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহত এক বিএনপির কর্মী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জামায়াত বাইরে থেকে লোকজন এনে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মেটন বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াত ও জাসদের নেতাকর্মীরা সভাপতির নাম প্রস্তাব করেন। এডহক কমিটিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আমলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর নাসিম রেজা মুকুলের আবেদন জমা দেন।
কিন্তু বিএনপি নামধারী জাসদের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা বল প্রয়োগ করে তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে সভাপতি বানানোর জন্য চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করেন। এ ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রহমত আলী রব্বান বলেন, ‘নাসির একসময় ছাত্রদল নেতা ছিলেন। এখন তিনি বিএনপির কর্মী। তবে ঘটনাটি যেহেতু স্থানীয় দুই পক্ষের তাই এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এ ব্যাপারে জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম জানান, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বিএনপি নেতা ও প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন। কিন্তু সে সমস্যার সমাধান আর হয়নি। ইতিমধ্যেই জাসদের ক্যডাররা তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। অবিলম্বে দোষীদের আটক করে আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানায়। এই বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র বিএনপি এবং জামায়েত কর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে আছে।
