মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে যৌতুকের দাবীতে জামাইয়ের হাতুড়িপেটায় শ্বশুর শ্বাশুড়ি ও স্ত্রী আহতের ঘটনা ঘটেছে।গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পিটুনির শিকার আহত ভুক্তভোগীরা বর্তমানে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ব্যাপারে মিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের শমেশ মন্ডলের পূত্র হাসান মন্ডল (৩৫) এর সাথে গৌরদহ গ্রামের নিদান আলীর কন্যা রিতা খাতুনের ১০ বছর পূর্বে সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিবাহ হয়। বিয়ের সময় হাসান তার শ্বশুরের কাছ থেকে ৫ কাঠা জমি ও নগদ ৩লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে নেয়। পরবর্তীতে আরো যৌতুকের দাবী করলে দিতে না পারায় রিতার উপর অমানুষিক অত্যাচার নেমে আসে। যৌতুক সহ সামান্য খুটিনাটি বিষয় নিয়ে হাসান মন্ডল তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে প্রায়ই বেধড়ক মারপিট ও অমানবিক নির্যাতন করে।
এ ব্যাপারে বহুবার গ্রাম্য শালিসে হাসান মন্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করে সতর্ক করা হলেও সে বিষয়টি আমলে না নিয়ে রিতাকে নির্যাতন করা অব্যাহত রাখায় রিতা এক পর্যায়ে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে রিতা শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসে।রিতার ভাই ইমরান জানান-মঙ্গলবার দুপুরে তামাক পোড়ানোর বিষয়ের অজুহাতে আবারো আমার বোন রিতা খাতুনকে মারধর করে জখম করে। আমার বোন বিষয়টি আমার বাবাকে জানালে আমি সহ আমার বাবা নিদান আলী, মাতা বুলবুলী খাতুনদের সঙ্গে নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে হাসানের বাড়ীতে যাই। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আমার বোনকে নিয়ে পায়ে হেটে আমাদের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা করে ফকিরাবাদ দিশা অফিসের দুই নাম্বার গেটের কাছে পৌছালে আমার ভগ্নিপতি হাসান,তার মা রিজিয়া ও ভাই রিয়াজুল একত্র হয়ে আমাদের পথরোধ করে গালিগালাজ করে।
আমার মা প্রতিবাদ করলে হাসানের হাতে থাকা সাইকেলের চেইন দ্বারা আমার মাকে এলোপাতাড়ী মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে। আমার মায়ের মারপিঠ দেখে আমার বাবা ঠেকাতে গেলে হাসানের হাতে থাকা হাতুড়ী দিয়ে আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখে আঘাত করে উপরের মাড়িডর দুইটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। রিয়াজুল ও রিজিয়ার হাতে থাকা বাটাম ও চেইন দ্বারা আমার বাবাকে এলোপাতাড়ী মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে। আমি ঠেকাতেগেলে তারা আমাকে মারধর করে। আমাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসিলে তারা আমাদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আমি আমার পিতা, মাতা, বোনকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
