মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অপহৃত এক কলেজ ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপহৃত শিক্ষার্থীর পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে মেয়েকে সুস্থ ও নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জন’স পার্ক রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অপহৃত কলেজছাত্রী জোহানা খাতুনের মা মোছাঃ রোজিনা খাতুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার মেয়ে মোছাঃ জোহানা খাতুন (১৭) মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়।
রোজিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, একই কলেজের শিক্ষার্থী মোছাঃ সেতু খাতুনের সঙ্গে তার মেয়ের বন্ধুত্ব ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেতু খাতুন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জোহানাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি মেয়েকে ওই বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জোহানাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সকালে পোড়াদহ নতুনবাজার এলাকায় কলেজের সামনে পৌঁছালে সেতু খাতুনসহ কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় জোহানাকে ট্রেনে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুই তরুণী বিষয়টি দ্রুত পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের খোঁজ চাইলে তারা কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উল্টো হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করেন জোহানার মা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপহৃত শিক্ষার্থীকে প্রতারণার মাধ্যমে অন্য কোথাও পাচার করা হতে পারে বলে পরিবারটি আশঙ্কা করছে। সংবাদ সম্মেলনে রোজিনা খাতুন প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতা চাই।” এ বিষয়ে মিরপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
