বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতবর্ষ পূর্তিতে নতুন আর পুরোনোদের মিলনমেলা
শতবর্ষে শত প্রাণ, বাজুক মনে ঐক্যতান’ এই শ্লোগানে পালিত হয় আলোকিত মানুষ গড়ার বিদ্যাপীঠ ভেড়ামারার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান।

বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতবর্ষ পূর্তিতে নতুন আর পুরোনোদের মিলনমেলা
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯২৪ সালে এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক শিক্ষা অনুরাগী জয়নাল আবেদীন(জয়নাল গার্ড) এই বিদ্যালয় টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে এই বিদ্যাপীঠের অগ্রণীযাত্রা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ এখন প্রবাসী আবার কেউ রয়েছেন সরকার ও বে সরকারি দফতরের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত।
১৮ফেব্রুয়ারী শনিবার দিনব্যাপী বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান। এই উপলক্ষে বিদ্যালয়টি সাজানো হয়েছিলো বর্ণিল সাজে।
শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি লাল ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসার ড.এম আলাউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রফিকুল ইসলাম সাবেক যুগ্নসচিব সংস্থাপন মন্ত্রণালয়। ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আক্তরুজ্জামান মিঠু। ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্তকর্তা হাসিনা মমতাজ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেকসোনা খাতুন, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ডাক্তার আমিরুল ইসলাম মান্নান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালাহউদ্দিন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী উৎসব করেন। অত্র বিদ্যালয় মাঠে তৈরি করা হয়েছিল বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল। স্থান পেয়েছিলো নানা রকমের স্টল। মাঠের সামনে ছিলো সুসজ্জিত গেইট, রঙ-বেরঙের তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তর এলাকা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছিলো। শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানকে সফল করতে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ছিলো অক্লান্ত প্রচেষ্টা।
অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র গ্রন্থ পাঠ, অনুষ্ঠানের সার্বিক দিক তুলে ধরে শুভেচ্ছা বক্তব্য, বিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের উপর আলাপচারিতা, আতশবাজি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘবছর পর সহপাঠি, বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সবাই। নানা উৎসবে মেতে ওঠেন অনেকেই। খুনসুটি আড্ডায় মেতে উঠেন বন্ধু-বান্ধবীরা।
শত বর্ষ উদযাপন করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে এসেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র-ছাত্রীরা। অনেক দিন পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে মেতে উঠেন অনাবিল আনন্দে। নবীন-প্রবীণে মিলে মিশে একাকার। বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে সাজানো হয়েছে তোরণ। দিনব্যাপী চলে নানা উৎসব সাংস্কৃতিক ও সংগীত পরিবেশনা। অনুষ্ঠানমালায় ছিলো গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বক্তৃতাসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারর্ণ।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আক্তরুজ্জামান মিঠু বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্দব সরকার। এই দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। তাই তিনি এই দেশে সর্ব প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করার মধ্য দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন করেছিলেন। যার সুফল আজও জাতি ভোগ করছে।
বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালাহউদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপনের এ অনুষ্ঠান ইতিহাসে হয়ে থাকবে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে এ জন্য নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, একশত বছর ধরে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রেখে বিদ্যালয়টি ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে আজও সগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর প্রায় শতাধিক ছাত্র কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শিক্ষালাভের উদ্দেশে বের হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার নির্বাহী কর্তকর্তা হাসিনা মমতাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করনের প্রধান মানুষটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। বাবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এখন সেই কাজ করছেন আমাদের সকলের প্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় এসে দেশ জুড়ে সহস্রাধীক বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারী করেছেন। এখনও এই কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে আগত সকলের আপ্যায়ন, চিকিৎসা, তদারকিসহ সব ব্যাবসস্থা নেয় আয়োজক কমিটি। দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসব আয়োজন, মিলন মেলা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, খাওয়া-দাওয়া, ছিলো হৈ-হুল্লোর আর আনন্দ।
