মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার রবিউল ইসলাম নামে এক মাদাক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়াতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র ৫ নেতাকর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মিরপুর থানায় এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে মিরপুর থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলী ছেলে রবিউল ইসলাম গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়া মাদক কারবারিকে ছাড়াতে মিরপুর থানার ওসিকে সুপারিশ করতে থানায় আসে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নওদা আজমপুর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে সুজন আলী, একই গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে এনামুল হক, মৃত মেহের আলী মালিথার ছেলে মোঃ আলাউদ্দিন, রমজান মন্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম ও মৃত ইসাহাক মালিকর ছেলে সাইদুল ইসলাম।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, পাঁচজন ব্যক্তি মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে থানা থেকে ছাড়াতে তার কাছে সুপারিশ নিয়ে আসে। একজন মাদক ব্যবসায়ীকে থানা থেকে ছাড়ার কোন ধরনের সুযোগ নেই। বিধি মোতাবেক তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ঘটনাটি জানাজানি হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অভিযুক্ত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন।
বিভিন্ন সূত্র মতে, মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া রবিউল ইসলামকে মিরপুর থানায় ছাড়াতে আসা পাঁচজনের ৪জন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থক এবং ১ জন বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে রাজনৈতিক সংগঠনে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো অপরাধীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা আইনের চোখে অপরাধ। পুলিশি হেফাজতে নেওয়া ৫ জনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সচেতন নাগরিক সমাজের।
