কুষ্টিয়ায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ : বেড়েছে হাত পাখার কদর - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ : বেড়েছে হাত পাখার কদর

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৫, ২০২৩
কুষ্টিয়ায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ : বেড়েছে হাত পাখার কদর

এমনিতেই তীব্র ও ভ্যাপসা গরম, তার ওপর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্থি। এই অস্বস্থি ও দূর্বিসহ গরম থেকে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের রক্ষা পেতে হাতপাখা এখন ভরসা। তাইতো এই গরমে আরাম পেতে কুষ্টিয়ায় বেড়েছে হাত পাখার কদর।

কুষ্টিয়ায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ : বেড়েছে হাত পাখার কদর

কুষ্টিয়ায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ : বেড়েছে হাত পাখার কদর

কুষ্টিয়ায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ : বেড়েছে হাত পাখার কদর

আর এ হাতাপাখা তৈরী করে দুই শতাধিক পরিবারের সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতাও। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি জ্যৈষ্ঠের শেষে তীব্র ও ভ্যাপসা গরমে সাধারণ জনজীবন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। এরপর আবার বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। তবে কিছুটা হলেও স্বস্থি দিচ্ছে তালপাতা দিয়ে তৈরী হাতপাখা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবার এ কাজের সাথে জড়িত। শহরের মানুষ কিছুটা বিদ্যুতের সুবিধা পেলেও গ্রামের সাধারণ মানুষ তা থেকে রয়েছে অনেকটাই বঞ্চিত। দিনে গড়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা লোডশেডিং হওয়ায় তারা গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে হাতপাখা এখন তাদের শেষ ভরসা।

তীব্র গরমে শিশুসহ সব বয়সীদের বেড়েছে নানা ধরনের রোগ। বৃষ্টি না হওয়ার কারনে তীব্র গরমে জনজীবনে এখন দূর্বিসহ অবস্থায় রয়েছে। গরমে সবচেয়ে কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র তাপদাহ ও অসহ্য গরমে তারা দিনমজুরি দিতে না পারায় গরমের সাথে জীবন যাপনও দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার পাখিভ্যান চালক সফিউল ইসলাম জানান, রোদের কারনে এখন আর কেউ পাখি ভ্যানে চড়তে চাইনা। সারা দিনে মাত্র ১৫০টাকা থেকে ২০০টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।

এদিকে তালপাতার তৈরী হাতপাখা গ্রীষ্মের সময় এর কদর বাড়ে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখার খোঁজ হয়। আর এই হাতপাখা তৈরী ও বিক্রয় করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও সংসার পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রতিটি হাতপাখা বিক্রয় হয়ে থাকে ১৫-২০টাকায়। এমনটাই জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের হাতপাখা তৈরীর কারিগররা। হাতপাখা তৈরী করে এক একটি পরিবার গড়ে একহাজার টাকা থেকে একহাজার দুইশত টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন।

তালপাতা দিয়ে তৈরী হাতপাখা একটি গ্রামীণ ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে যারা ধরে রাখেন বা সংরক্ষণ করেন তারা সকলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। এ উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তাও দিয়ে থাকেন প্রশাসন। এমটাই জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল।

গরমের অস্বস্থি থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন পড়ে তালপাতা দিয়ে তৈরী মাত্র ২০টাকার হাতপাখার শীতল পরশ। যা একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ। এটা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার।