বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নেই কোনো কর্মী-সমর্থক। কখনো স্বামীর মোটরসাইকেলে চেপে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী রুম্পা খাতুন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পেয়ে হাতী প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রুম্পা। গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল মোড় এলাকায় দেখা যায়, দুইজন নারী-পুরুষ চা-সিঙ্গারার দোকানে ঘুরে ঘুরে ভোট চাচ্ছেন। কেউ কেউ তাদের হাত থেকে পোস্টার নিচ্ছেন, কেউবা ফিরেও তাকাচ্ছেন না। তাতে অবশ্য মন খারাপের বালাই নেই। প্রত্যেকের হাতেই পোস্টার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর সঙ্গে থাকা তার পুরুষ হ্যান্ড মাইকে বলছেন, ‘ভোট দিয়েন ভাই, ভোট দিয়েন। হাতি মার্কায় ভোট দিয়েন।
কর্মী-সমর্থক না থাকায় ব্যবসায়ী স্বামী আব্দুল হালিমকে সঙ্গী করে ভোট প্রার্থনার বিষয়ে রুম্পা খাতুন বলেন, আমার অনেক আত্মীয়-স্বজনকেও বড় দলের লোকেরা শপথ পাঠ করিয়েছেন। এখন তারা আমাকে বলছে, পরবর্তী সময়ে তারা আমাকে ভোট দেবেন, কিন্তু এবার পারবেন না। তবে এতে আমি বিচলিত না। আমি একলা চলো নীতিতেই আমার স্বপ্নের পথে হাঁটতে চাই। তাতে আমার ডাক শুনে কেউ আসুক বা না আসুক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইএমবিএ সম্পন্ন করা রুম্পা খাতুন ও তার স্বামী আব্দুল হালিম নিজ এলাকা কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়িতে গড়ে তুলেছেন পোশাক কারখানা।
ভোটযুদ্ধে নামার বিষয়ে রুম্পা খাতুন বলেন, ভোটাররা আমাদের পছন্দ করছেন। গোপনে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। কিন্তু বড় দলগুলোর কারণে তারা ভয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না। যদি আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারি, তাহলে তারা বিভিন্ন সমস্যার শঙ্কা করছেন। অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা। তবে নারীদের দারুণ সাড়া পাচ্ছি। তারা আমাকে সংসদে দেখতে চায়। নারী প্রার্থী হিসেবে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে রুম্পা বলেন, নারী প্রার্থী হিসেবে একদল পছন্দ করছেন। বিপরীতে আরেক দল কটু কথাও বলছেন। তারা শঙ্কা করছেন, তাদের পছন্দের প্রার্থীর ভোট কেটে ফেলতে পারি আমি। প্রচারে নিজের জনবল না থাকার বিষয়ে এই নারী প্রার্থী বলেন, আমরা রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি। আমরা চাচ্ছি ভোটের পেছনে টাকা নষ্ট না করে সেই টাকায় উদ্যোক্তা সৃষ্টি হোক। অনেক দলকে দেখছি তারা নির্বাচনে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছেন।
এসব টাকা তারা কোথায় পান? কয়দিন আগেও তারা অস্বচ্ছল মানুষ ছিলেন। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে রুম্পা খাতুন বলেন, এমপি হলে চাইনিজদের মতো ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে চাই। আগে গ্রাম থেকে এসে সবাইকে ট্রেনিং নিতে হতো শহরে। আমি চাচ্ছি, এখন শিক্ষকরা গ্রামে গিয়ে ট্রেনিং দিয়ে উদ্যোক্তা গড়ে তুলুক। চীন কিন্তু একসময় অর্থনৈতিকভাবে বাজে সময় পার করেছে। পরে উদ্যোক্তরাই চীনের চেহারা বদলে দিয়েছে। সেখানে ঘরে ঘরে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। অথচ আমরা এখনো ছুটছি চাকরির পিছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার সুগার মিল ও মোহিনী মিল চালু করতে চান তিনি। ভোটের মাঠে স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে দিনরাত খেঁটে চলেছেন আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, রুম্পা সবসময় মানুষের জন্য কিছু করতে চায়। আমিও তার পথচলায় সবসময়ের সঙ্গী। এবার বললো ভোট করবে, আমি তাতেও আপত্তি করিনি। যদি সে এরমাধ্যমে একজন মানুষের জন্যও কাজ করতে পারেন, সেটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া হবে।
