বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য কুষ্টিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়া সদর থানাধীন কুষ্টিয়া জেলা স্কুল অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকবাল হোসেন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার)। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদেরই হলো মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত প্রতিনিধি। তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব বা অনিয়মের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার) নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ব্যবস্থাপনা, ভোটার শনাক্তকরণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রেরণ প্রক্রিয়াসহ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক বিষয়সমূহ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। কর্মশালার শেষে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং এর মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
