নিজ সংবাদ ॥ চিকিৎসা নিতে আসা ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা পাচ্ছেন না খাবার পানি। মসজিদ, অন্যের বাড়ী অথবা দোকান থেকে খাবার পানি কিনে সংগ্রহ করে খেতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। তবে মসজিদের একটি মাত্র টিউবয়েল পানি সেটা আর্সেনিক মুক্ত বা আর্সেনিক আছে
কি না জানেন না চিকিৎসকরা। তবে রোগীদের দাবী এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত মানের পানির ফিল্টার বসানোর দাবী জানিয়েছেন তারা। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন ৬টি ইউনিয়নের ৮১ গ্রামের প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার জনসাধারণ মানুষ। প্রতিদিন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০-৩০০জন রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পেলেও মিলছে না খাবার পানির ব্যবস্থা।
সাবমার্সেল মোটরের মাধ্যমে নিজস্ব পানির ব্যবস্থা থাকলে তা নোংরা, দুর্গন্ধময় যা খাবারের জন্য অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটাও বিকাল ৪ টার পর বন্ধ হয়ে যায়। রোগী ও রোগীর স্বজনেরা বাধ্য হয়ে মসজিদ, অন্যের বাড়ী অথবা দোকান থেকে অধিক দামে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয় তাদের। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের কল থেকে পানি তুলতে খুব কষ্ট হয়।
একজগ পানি তুলতে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা সময় লাগছে। কিন্তু সেই পানিও স্বাস্থ্য সম্মত নয়। হাসপাতালে ভালো পানির ব্যবস্থা করা হোক এটাই চাই। অপর রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে খাবার পানির কোন ব্যবস্থা নেই। পাশের মসজিদ থেকে সবাই পানি এসে খায়।
বেশীর ভাগ সময় রোগী দেখতে আসার সময় বাড়ী বা বাইরে থেকে পানি নিয়ে আসা হয়। ভালো পানির ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। তাতে সবার জন্য উপকার হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলছেন রোগীদের সেবার দেওয়ার পর তারাও তৃষ্ণা মেটানোর জন্য মসজিদ থেকে পানি সংগ্রহ করে খেতে হয়।
যদি উন্নত মানের পানির ফিল্টার থাকলে রোগী ও তাদের চিকিৎসা কাজে সুবিধা হত। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি মাত্র টিউবয়েল আছে। আর সেটিও আর্সেনিকমুক্ত আছে কি না জানেন না চিকিৎসক।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোনিয়া রুস বলেন, আমরাও মসজিদের কল থেকে পানি এন খায়। এবিষয়ে যদি কোন ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ভালো হয়। রোগীরা পানি পাচ্ছে না এ বিষয়ে জানেন না নির্বাহী অফিসার। তবে রোগীরা উন্নত মানের ভালো পানি পায় সেটার দ্রুত ব্যবস্থার আশ^াস দিলেন এ কর্মকর্তা। মুঠোফোনে জানতে চাই ভেড়ামার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু বলেন, আমি নিজে গিয়ে বা সরেজমিনে কাউকে পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে যদি এরকম হয় তাহলে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
