ভেড়ামারায় দুম্বার মাংস বিতরণে অসন্তুষ্টি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভেড়ামারায় দুম্বার মাংস বিতরণে অসন্তুষ্টি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৫

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় সৌদি আরব সরকারের পাঠানো উপহারের দুম্বার মাংস সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ার পর নিন্দা জানিয়েছেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে তড়িঘড়ি করে ১০ থেকে ১১ মণ মাংস উপজেলা প্রশাসনের পছন্দমত ব্যক্তি, মাদ্রাসা, আনসার ক্যাম্প, ডরমেটরি, উপজেলা ও পৌরসভার কর্মরতদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

এনিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ দুস্থ মানুষেরা। তাদের দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পক্ষ থেকে একটি তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে রয়েছে অসংগতি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে ৬টি ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬ কার্টুন দুম্বার মাংস আসে। প্রতি কার্টুনে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের ১০টি প্যাকেট ছিল। যার আনুমানিক ওজন ছিল প্রায় ১০ থেকে ১১ মণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পছন্দমত বিভিন্ন মাদ্রাসা, ৩০ জন ব্যক্তি, আনসার ক্যাম্প, ডরমেটরিসহ উপজেলা ও পৌরসভার বেশ কিছু ব্যক্তির মাঝে দুম্বার মাংস ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের না ডেকে অনেকটা গোপনে দ্রুততার সাথে বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় পিআইও অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও উপজেলা পুরাতন মসজিদের ইমাম ভাগ বাটোয়ারায় অংশ নেন। এর পরেই ইউএনও রফিকুল ইসলাম তার ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে দুম্বার মাংস ৩৫টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণের কথা জানান।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে ২৫ থেকে ২৭টি মাদ্রাসায় স্বল্প পরিমাণে মাংস দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অনেক তালবাহনার পর উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া বিতরণের তালিকায় তথ্যের অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। কোন কোন মাদ্রাসায় মাংস না দিয়েও তাদের নাম লেখা হয়েছে। আবার কোনটায় দিয়েছে কম, লিখেছে বেশি। এরমধ্যে অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামের তথ্যও উঠে এসেছে। মাংস বিতরণের পরিমাণের সাথেও তালিকায় উল্লেখ করা পরিমাণের ব্যাপক হেরফের দেখা যায়। এছাড়াও মাংস বিতরণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি লক্ষ্য করা গেছে। জরিনা খাতুন নামের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বলেন, গত শুক্রবার দুম্বার মাংস এসেছে শুনে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি সব ফাঁকা। সম্ভবত তারা ভেতরেই ভাগ বাটোয়ারা করেছে। গরিবের হক বড়লোক খেয়েছে। এই বিচার আল্লাই করবে।

উপজেলার মাহমুদিয়া কওমী মাদ্রাসার মুহতামিম হাবিবুল্লাহ বেলালী বলেন, আমার মাদ্রাসায় দিয়েছে এক প্যাকেট, প্রকাশিত তালিকায় লিখেছে বেশি। এরকম অনেক মাদ্রাসাতেই দিয়েছে কম, লিখেছে বেশি। কাঠেরপুলের জামিউল হুদা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুর রউফ বলেন, আমার মাদ্রাসায় কোন দুম্বার মাংস আসেনি। অথচ তালিকায় আমার মাদ্রাসা সহ আরও বেশ কয়েকটা মাদ্রাসা দেখলাম, যাদের কাছেও দুম্বার মাংস যায়নি। এটাকে ইসলামের ভাষায় জুলুম বলে। জানতে চাইলে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সঠিকভাবে দুম্বার মাংস বিতরণের জন্য বলেছি। আর আমি নিজেও দুম্বা, উটের মাংস খাই না। এ সময় সাংবাদিকরা আনসার ক্যাম্প, ডরমেটরিকে মাংস দেওয়ার বিষয়ে বললে তিনি বলেন, তারা তো গরিব, পেতেই পারে।