শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি এবং বরগুনা জেলার বামনা ও পাথরঘাটা জনসভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

কুষ্টিয়া থেকে পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ থেকে উক্ত ভার্চুয়ালি নির্বাচনী জনসভায় যুক্ত হয়েছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকে প্রার্থী আ. কা. ম. সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর সভপাতি ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসানুল হক ইনু, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকে প্রার্থী মাহবুবউল আলম হানিফ এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকে প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা।
জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন কুষ্টিয়াবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আসলে বিজয়ের মাসে ৫২ বছর আগে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে এই দেশের মাটি ও মানুষের মুক্তির জন্য জীবণ বাজি রেখে অস্ত্রধারণ করে যুদ্ধ করেছিলাম। সেই দিনের কথা ৫২ বছর পরে আপনাকে সামনে পেয়ে আমাদের মনে হচ্ছে আমরা যে সাহস যুগিয়েছি শ্রদ্ধেয় নেত্রী আপনি যে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন কুষ্টিয়াবাসী আমরা একসঙ্গে আপনার নেতৃত্বে যারা অশুভ শক্তি এই দেশটাকে বিশ্বাস করে নাই, এই জাতীকে যারা বিশ্বাস করে নাই, মোনাফেক জামায়াত-শিবির’র জায়গা পাকিস্থান, আমরা তাদের অপনার নেতৃত্বে পাকিস্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি। আমরা কুষ্টিয়াবাসী আপনার কাছে যে দাবী করেছিলাম সেটা আপনি আমাদের নেতার মাধ্যমে পূরণ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি আমরা অপনার নেতৃত্বে এবং দোয়ায় কুষ্টিয়াতে একসঙ্গে ৪টা নৌকায় যেন বিজয়ী করতে পারি । প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান বলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। কুষ্টিয়াতে যে উন্নয়ন আপনি দিয়েছেন, সেই উন্নয়ন মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বাস্তবায়ন করেছেন। শেখ রাসেল সেতু, শেখ কামাল স্টেডিয়াম এবং ঐতিহাসিক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কুষ্টিয়াবাসী সব সময় আপনার কথা মনে করে। কুষ্টিয়ার নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত সুসংগঠিত। ২০০৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত কুষ্টিয়াতে কোন আগুন সন্ত্রাস বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয় নাই।
এক সময় এই কুষ্টিয়া ছিলো সন্ত্রাসের অভয়ারোণ্য। হানিফ এমপির নেতৃত্বে আমরা তা উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছি। কুষ্টিয়ার সমস্ত আইন শৃঙ্খলার অবস্থা ভালো। আপনি বলেছেন ভোট উন্মুক্ত হবে। ভোট উন্মুক্তই হবে। যারা যে কর্ম করেছে তার ফল আগামী দিন তারা পাবেন। এতে কোন সন্দেহ নাই। দল ঐক্যবদ্ধ আছে, দলের নেতা কর্মিরা ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আপনি পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী, আগামী দিন ইনশা অল্লাহ আবারো হবেন। কুষ্টিয়াতে জামায়াত-বিএনপির অবস্থান আর থাকবে না এবং মুসলিম লীগ হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে। আর ভোট দেওয়া লাগবে না। আপনি যেভাবে দেশের উন্নয়ন করেছেন, মহিলাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন সবই করেছেন।
একটা অনুরোধ রাখবো, আপনি দলের উন্নয়ন করবেন। উপস্থিত কুষ্টিয়ার নেতাকর্মীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ইনু ভাইও নৌকায় চড়েছেন। নৌকা যেনো দোল খেয়ে পড়ে না যায়, সেদিকে একটু খেয়াল রাখবেন। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সুসংহত করতে চাই আমরা। সব প্রার্থী ভোটারদের কাছে যাবেন। তাদের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করবেন। দেশকে যখন আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন তারা সন্ত্রাস শুরু করেছে।
বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, ওরা সন্ত্রাসী। ওরা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে চলছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে না পারলে, দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা যাবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, মানুষ নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারলেই গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকবে। দেশটা এগিয়ে যাবে। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। বিএনপি-জামায়াতের হাতে এই দেশ কখনো নিরাপদ নয়। এদের হাত থেকে দেশরক্ষা করার আহ্বান জানাই সবাইকে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘৭৫-এর পর সাধারণ মানুষের নয়, ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছিল ঘাতকদের। দেশের মানুষই আমার পরিবার, তাদের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেছি। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসার রাজনীতি জাতির পিতার মেয়ে করে না বলেই সেই নির্বাচনে হারতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ২০০৯-২৩ এই বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, সব সূচকেই দেশ এগিয়ে গেছে অভূতপূর্বভাবে। উন্নয়নের ধারাটা বজায় রাখতে হবে। বিএনপি অতীতের মতোই নির্বাচন ঠেকানোর নামে ভয়ংকরভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করে চলেছে। মনুষ্যত্ববোধ থাকলে বিএনপি এসব করতে পারতো না।
আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় হবে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট চাই, সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবেন। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে একবারই ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আমরা ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি। জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবেন না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে আমরা আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না। ওই সন্ত্রাসী বিএনপি আর যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের হাতে এদেশ কোনোদিনই নিরাপদ নয়। কারণ, এরা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। বিএনপি-জামায়াত তথা অগ্নিসন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
