ইবি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. নওয়াব আলীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ (পর্ব-১)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. নওয়াব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দূর্ণীতি দমন কমিশনে । এছাড়াও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তার দূর্ণীতির বিষয়ে মতামত বা বক্তব্য প্রদানের জন্য দেওয়া হয়েছে চিঠি । কিন্তু কোন কিছুতেই আটকাতে পারেনি ড. নওয়াব আলী’র ক্ষমতা । তার অধীনেই চলমান রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২টি প্রকল্পের ৫ শত ৩৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকার কাজ ।

ইবি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. নওয়াব আলীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ (পর্ব-১)
৩২টি প্রকল্পের কাজের মেয়াদ গত বছর শেষ হলেও হস্তান্তর হয়েছে হয়েছে মাত্র ৬ টি প্রকল্প । বাকি ২৬ টি প্রকল্পের মধ্যে ৬ টি প্রকল্পের কাজ দুই এক মাসের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানা গেলেও অন্য ২০ টি প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, ড. নওয়াব আলী ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন । ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত ছিলেন । পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি লিয়নে ছুটি নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী হয়েছেন । যা আইন পরিপন্থী ।
দূর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রানী, ঘুষ বাণিজ্য এবং নারী কেলেংকারীর অপরাধে রাতের আধারে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালিয়ে আসেন। তার দুর্ণীতির বিষয়টি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন ।

দূর্ণীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি একজন দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমান প্রশাসনের তোষামোদী, নিয়োগ বানিজ্যের সহযোগী এবং দূর্নীতির যোগানদাতা হিসেবে বর্তমান প্রশাসনের নানাবিধ অপকর্মের হোতা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাঁকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন । যা সম্পূর্ণ চাকুরী বিধির পরিপন্থি।
দূর্ণীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, তাঁর চেয়ে যোগ্য এবং অভিজ্ঞ ১০ জন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে উল্লিখিত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জনাব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া সম্পাদিত বাংলাদেশ সার্ভিস রুল সরকারী অনুযোগপ্রাপ্ত পার্ট-১ ও পার্ট-২, একত্রিশতম সংস্করণ) বইয়ের ৫২৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত (সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের নং সম (বিধি-১)/ এস-১১ / ৯২-৩০ (১৫০), তারিখ ০৫-০২-১৯৯২, চলতি দায়িত্ব/অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত) ২ এর খ মোতাবেক “নতুন সৃষ্ট পদে চলতি/অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে । যেটা রাষ্ট্রের আইন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন পদে নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার বিধান থাকলেও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যা মানা হয়নি। এছাড়া তিনি ইংরেজিতে পারদর্শি না হয়েও বর্তমান প্রশাসনের নির্লজ দালালির পুরস্কার হিসেবে ইংরেজিতে বিশাল আকৃতির থিসিস জমা দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে নিজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ আর্থিক ক্ষতি করেছেন ।
এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. নওয়াব আলী বলেন, দূর্ণীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না । ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকেও এই বিষয়ে তাকে কোন কিছু জানানো হয়নি ।
তার নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি লিয়নে ছুটি নিয়ে আইনগত ভাবেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী হয়েছেন ।
