ভাদালিয়ায় নিউ কুমারখালী দধি ভান্ডারে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ! - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভাদালিয়ায় নিউ কুমারখালী দধি ভান্ডারে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ!

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার মসজিদ মার্কেটে অবস্থিত নিউ কুমারখালী দধি ভান্ডারে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে দই-মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্যের সত্যতা মিলেছে। প্রতিবেদক দল দোকানে গিয়ে দেখতে পায়, মূল ফটকের সামনে ঝুড়িতে রাখা কয়েকটি দইয়ের খুঁটি অন্য একটি ঝুড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ঢাকনা সরিয়ে দেখা যায়, দইগুলো ছোট কাগজ দিয়ে আচ্ছাদিত। কাগজ সরাতেই স্পষ্ট হয় কয়েকদিন আগের বাসি দই বিক্রির জন্য রাখা রয়েছে। দইয়ের ভেতর থেকে কালো পোকা ও লাল পিঁপড়া বের হতে দেখা যায়।

দোকানের ভেতরে বড় স্টিলের গামলায় রসগোল্লা, চমচমসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি রাখা ছিল। মিষ্টির রসের উপর ভেসে থাকতে দেখা যায় মৃত পোকা ও ময়লা। পাশের কাঁচঘেরা শোকেসে শুকনা মিষ্টির সঙ্গে ঘি ভর্তি প্লাস্টিকের বোয়েম রাখা ছিল। বোয়েমের নিচের অংশে ঘি থাকলেও উপরের বড় অংশ তেল দিয়ে পূর্ণ বলে স্পষ্ট দেখা যায়। এছাড়া ফ্রিজে পঁচা ও বাসি দই-মিষ্টি সংরক্ষণ করে বিক্রির প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ দোকানে পঁচা ও বাসি দই-মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ সাইফুল ইসলাম গ্রামের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানান তারা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। পরবর্তীতে প্রতিবেদক দল বটতৈল কেরু বিশ্বাসের মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের কারখানায় গেলে মূল ফটক বন্ধ পাওয়া যায়।

ফটকের ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, মিষ্টি তৈরির চুলার পাশে থাকা কড়াইয়ে একটি কুকুর মুখ ঢুকিয়ে চাটছে। পাশেই দরজাখোলা অপরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং কারখানার ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ দেখা যায়। তবে ফটক তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। দোকানে উপস্থিত হয়ে প্রথমে মালিকের দেখা পাওয়া যায়নি। তার ফুফাতো ভাই জানান, মালিক না থাকায় তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মালিক দুই ঘণ্টা সময় চান। একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। ঘটনাস্থল থেকে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী দোকানের নাম-ঠিকানা ও ভিডিও ফুটেজ চান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে কথা হলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।