আমি পারভেজ আনোয়ার তনু, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া সদর-০৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, ৭ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে কুষ্টিয়া সদর আসনের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও পেশীশক্তির ব্যবহার করে নির্বাচনকে কলংকিত করা হয়েছে। আপনারা অবগত আছেন, এ আসনের নৌকার প্রার্থী ভোটের আগের রাতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্বদলবলে প্রতিটি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে মহড়া দেন এবং নেতা কর্মীদের মাধ্যমে যেকোন মূল্যে ভোট কেন্দ্র দখল করা ও আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে আমরা জানতে পারি। আমি তৎক্ষনাত রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এটি আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন সত্ত্বেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ভোটের ঠিক একদিন আগে থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেয়া শুরু হয় এবং নির্বাচনের আগের রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। এছাড়া শুরু থেকেই আমাদের ক্যাম্প ভাংচুর এবং আমাদের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয় যাতে ভোটাররা ভয়ে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে না আসে। ভোটের আগের রাতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ‘মানব’ চাকি ও তার লোকজন আমার সমর্থকদের ঘরে ঘরে যেয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় যাতে তারা ঈগলের এজেন্ট না হয় বা ভোট দিতে না যায়। ৮ জানুয়ারী তারিখেও এ হুমকি সে অব্যাহত রাখে তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।
প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদে অনেক শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অস্থায়ী ও নন এমপিও দু’জন প্রভাষক জনাব সুজন কুমার বিশ^াস ও প্রতাপ কুমার বিশ^াস কে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও নির্বাচন বিধি বহির্ভূত বলে আমার আইন পরামর্শদাতা উল্লেখ করেছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ মতে আমি ভোটের দিন ০৭.০১.২০২৪ তারিখ সকাল ৭:৩০ মিনিটে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে রির্পোট করতে বলি। ভোটের আগের রাতে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আমার এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে গেলে অধিকাংশ কেন্দ্রের বাইরে নৌকার কর্মীরা কেন্দ্রের আঙ্গিনার ভিতরে ঢুকতে পুনরায় চরম ভয়ভীতি ও বাধা প্রদান করে। অনেককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বা ঢুকলেও ভোট গ্রহণ শুরুর পর পরই তাদেরকে কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। কোন কোন কেন্দ্রে যেমন, কুওয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা আমলাপাড়ায় মহিলা পোলিং এজেন্টটের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয় পত্র ও নিয়োগ পত্র ছিঁড়ে ফেলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সভাপতি মিলন মন্ডল পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়। একইভাবে আব্দালপুর, জিয়ারখী, ঝাউদিয়া, বটতৈল, আলামপুর, হরিনারায়নপুর, গোস্বামী দূর্গাপুর, মনোহরদিয়া, পাটিকাবাড়ি ও কাঞ্চনপুর, উজানগ্রাম, আইলচারা ইউনিয়নের প্রায় সকল কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটে। এছাড়া কুষ্টিয়া পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলিতে একই অনিয়ম ও পেশীশক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দাখিলের পরে দু-একটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাজির হয় কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই পুনরায় পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের বাইরেও এমন ভীতি প্রদর্শন শুরু করে যাতে ভোটাররা ভোট দিতে না আসে। আপনারা জেনেছেন যে, জননেত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ভোট কেন্দ্রে আসার আহবান করেন কিন্তু হীন উদ্দেশ্যে একমাত্র কুষ্টিয়া সদর আসনে সাধারণ ভোটারদেরকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় এবং প্রশাসনের একাংশের সহায়তায় অনেক ভোটারকেই প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সীল প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে যা নির্বাচনী আইনের সুষ্পষ্ট লংঘন।
ভোট গ্রহণের দিন সকাল ০৯:০০ ঘটিকার মধ্যে জানতে পারলাম যে, ৫২ টি কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তখন আমরা সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারদের ফোন করে তাদের সাহায্যে কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ঢোকানোর চেষ্টা করেছিলাম। মাত্র ০৩টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের সহায়তায় আমরা পোলিং এজেন্ট ঢুকাতে পেরেছিলাম বাকিগুলো ভোট কেন্দ্রের গেটের কাছেই যেতে পারে নাই নৌকার কর্মীদের হুমকি ও বাধার কারণে। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের খবর আসা শুরু হলো এরপরে। আরো কিছু কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্ট বের করার খরব পেলাম এবং সকাল ১১:০০ ঘটিকায় আমার প্রায় ৭০-৮০ টি কেন্দ্র পোলিং এজেন্টশূন্য হয়ে যায়। বিভিন্ন কেন্দ্র (যেখানে পোলিং এজেন্ট ছিল) থেকে খবর আসতে থাকে যে, পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বের হয়ে যেতে বলা হচ্ছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানী এড়াতে আমি আমাদের কর্মীদের নিবৃত করেছি। আমি ছাড় দিয়েছি, তার মানে এই নয় যে, আমি ছেড়ে দিয়েছি। দুপুর ১২ ঘটিকার দিকে আমরা ২১ টি সবচেয়ে ঝামেলাপূর্ণ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার বরাবর ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার আবেদন পাঠাই। মাত্র ০২টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার আবেদন গ্রহণ করেন কিন্তু বাকিরা কেই আবেদন গ্রহণ করেন নাই। আরও অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের খবর আসতে থাকে এর মধ্যে। আমরা প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন থেকে কোন সহায়তা পাচ্ছিলাম না অভিযাগ করে। আমরা তখন লিখিতভাবে ও সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়ার মাধ্যমে আবেদন জানাই কুষ্টিয়া-০৩ আসনের ভোট স্থগিত করার। রিটার্নিং অফিসার বরাবর আমরা বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখ করে সদর আসনের ভোট স্থগিতের আবেদন জানাই কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এর কার্যালয়ে আবেদন গ্রহণ করেনি, পরবর্তীতে মুহাম্মাদ মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা দায়রা জজ ২য় আদালত, কুষ্টিয়া এবং চেয়ারম্যান নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কার্যালয়ে আবেদন পত্রটি গ্রহণ করেও কোন সুরাহা পায়নি। আমি ৭৭ কুষ্টিয়া-০৩ আসনে পুনরায় ভোট গ্রহণের জোর দাবী জানাচ্ছি। (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)।
