বোনের শ্বাশুড়ির মরদেহ দেখে আসার পথে তিন ভাইয়ের মৃত্যু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বোনের শ্বাশুড়ির মরদেহ দেখে আসার পথে তিন ভাইয়ের মৃত্যু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ৮, ২০২৫

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে একে একে তিনটি কবর। স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে প্রথমে সুমন মণ্ডলের (২৫) মরদেহ দাফন করেন। এরপর তাঁর ছোট ভাই রিমন মণ্ডল (১৪) এবং সবশেষ তাঁদের চাচাতো ভাই আশিক মোল্লার (২২) মরদেহটি দাফন করেন তাঁরা। গতকাল রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দুধরাজপুর-মহম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে সরেজমিন গিয়ে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। এটি উপজেলার সদকী ইউনিয়নে অবস্থিত। এ সময় ৮৫ বছর বয়সী মহম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস আলী ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বলেন, একসঙ্গে এতো গুলো মরদেহ দাফনের ঘটনা আগে কোনোদিন ঘটেনি।

তো লাশ দেখে সবাই মর্মাহত। গ্রামে শোকের মাতম চলছে। গ্রামজুড়ে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। নিহত সুমন ও রিমন কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহম্মদপুর গ্রামের কৃষক করিম মণ্ডলের ছেলে। তাঁরা পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রি ছিলেন। আশিক একই গ্রামের ব্যবসায়ী শাহিন মোল্লার ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরির পাশাপাশি উবার গাড়ি চালক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে নিহত সুমনের বোন শেফালীর শ্বাশুড়ি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। সেই খবর পেয়ে সুমন ও রিমন তাঁদের চাচাতো ভাই আশিকের মোটরসাইকেল করে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর কবরস্থান এলাকায় অজ্ঞাত বাস বা ট্রাকের চাপায় তাঁরা মারা যান। খবর পেয়ে ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ গুলো উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেন।

এ খবরে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এরপর গতকাল রোববার দুপুরে মরদেহ গুলো গ্রামে নিয়ে আসার পর কাফন শেষে দুধরাজপুর-মহম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিহত আশিকের বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড়। আহাজারি করছেন মা শিউলি খাতুন, বোনসহ স্বজনরা। এ সময় আশিকের মা শিউলি খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘ আমি কি জানি বেটা ওর সাথেই আসতেছে গো। আমি কিছই জানিনে গো। ওরে সোনা কিছুই বলে গেলো না গো।’ বাবা শাহিন মোল্লা বলেন, সুমন আর আশিক বন্ধু ও চাচাতো ভাই ছিল। ওদের বাড়ি আসার কথা জানতাম না। সুমনের বোনের শ্বাশুড়ির মৃত্যুর খবর শুনে ওরা বাড়ি আসতেছিল। রাত একটার দিকে পুলিশ ফোনে জানায় দুর্ঘটনার কথা। নিহত সুমন ও রিমনের বাবা করিম মণ্ডল বলেন, বোনের শ্বাশুড়ির মরা দেখতে এক মোটরসাইকেলে আসতেছিল ওরা।

রাস্তা খুব ভাঙা ছিল। পথে ভাঙ্গা এলাকায় পৌছালে তিনজনই গাড়ি থেকে রাস্তায় পড়ে গিছিল। তখন আরেকটা গাড়ি এসে ওদের চাপা দিলে দুর্ঘটনায় তারা মারা যায়। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কোনো মামলা করা হবেনা। এক গ্রামে তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো.আফজাল হোসাইন। তিনি বলেন, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা অতীতে ঘটেনি। সবাই শোকাহত – মর্মাহত। সবাই মিলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে। কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমারখালীর তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে।