বিষ পানে ছেলের মৃত্যু, মা হাসপাতালে ভর্তি
ঝিনাইদহে বিষ পানে তিন বছরের ছেলের শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এছাড়া মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ৩০ মে সকালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিষ পানে ছেলের মৃত্যু, মা হাসপাতালে ভর্তি
ঘটনা সুত্রে জানা যায়, শেখ পাড়া গ্রামের ঝন্টু বিশ্বাস এর ছেলে সজিবের (২৪) সাথে পাশের গ্রাম শান্তিডাঙ্গা গ্রামের রইস উদ্দিনের মেয়ে মিমের (২১) পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। প্রথম অবস্থায় সবকিছু ঠিকঠাক চললেও বিয়ের কিছু দিন না যেতেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ।
সজিব ও মিমের সংসারে বিয়ের দেড় বছরের মাথায় একটা পুত্র সন্তান জন্ম নেয় তবুও তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে। তারই জের ধরে পারিবারিক অশান্তি সহ্য না করতে না পেরে সজিবের স্ত্রী মিম নিজে বিষ খাই এবং তিন বছরের ছেলে মাহাদির মুখেও বিষ দেয় এবং ছেলে সহ নিজে আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্য ঘরের ডাবের সাথে গলাই ওড়না পেচিয়ে ঝুলে পড়ে। এমতবস্থায় স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছেলেকে মৃত ঘোষণা করে এবং মা মিম হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে এ বিষয়ে স্বামী সজীব এবং স্ত্রী মিমের স্বজনদের রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
এ বিষয়ে সজিবের প্রতিবেশী ও বিয়াই আনিস বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো । এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ভাবে বসাবসি করেও মিমাংসা হয়নি। সজিবের স্ত্রী মাঝে মধ্যেই বাচ্চা ছেলে সহ নিজে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিত। ঘটনা শুনে সাথে সাথেই সজিবের বাড়িতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে তাদের দুজন কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে মিমের খালাতো ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার বোনকে তারা মাঝেমধ্যেই মেরে ফেলার হুমকি দিত, আজ তারা জোর করে আমার বোন ও ভাগ্নিকে বিষ পান করিয়ে ঘরের ডাপে ঝুলিয়ে রাখে এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড আমি এর বিচার চাই।

বিষ পানে ছেলের মৃত্যু, মা হাসপাতালে ভর্তি
এ বিষয়ে সজিবের স্ত্রী মিম বলেন আমার শাশুড়ী সহ আমার স্বামীর বাড়ির সবাই সবসময় আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত, আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হুমকি দিতো আজকে আমার ছেলে টেলিভিশনের রিমোট ভেঙ্গে ফেলাই আমাকে এবং আমার ছেলেকে জোর করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রুমন জানান, বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় পরবর্তীতে ময়নাতদন্তর জন্য মৃত বাচ্চাটিকে মর্গে পাঠানো হয় এবং ল্যাব রিপোর্টের পরেই আসলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে ।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা এ বিষয়ে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি । তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষের অভিযোগ পাই নাই।
