বিষধর সাপের উপদ্রবে অতিষ্ঠ খোকসাবাসী - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিষধর সাপের উপদ্রবে অতিষ্ঠ খোকসাবাসী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৪

মিলন খোকসা ॥  খোকসায় বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার মৌসুমে বিষধর সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা গেছে ৩ জন ।স্থানীয় কৃষকরা সাপের ভয়ে মাঠে কাজ করতে পারছে না । 

কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলায় পদ্মা- গড়াই নদী বিধৌত এলাকায় গোপগ্রাম, আমবাড়িয়া, শোমসপুর, সন্তোষপুর, উত্তর শ্যামপুর, ফুলবাড়ি, একতারপুর , ও শিমুলিয়া ইউনিয়নে নারী-পুরুষ সাপের আক্রমনের শিকার হয়েছেন। জানা যায়, গোপগ্রাম ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের রোহান (১৮), চাকরিপুর গ্রামের রুহুল আমিন (৫০), ঝর্ণা (৩০), আমবাড়ীয়া গ্রামের এলো প্রামানিকের স্ত্রী সালমা (৩৫), গোপগ্রাম ইউনিয়নের বাবুর স্ত্রী শ্রাবণী (২১), সন্তোষপুর গ্রামের কালাম (৫০) এদেরকে সাপের কামড়ে অসুস্থ অবস্থায় খোকসা হাসপাতালে আনা হয় ।

পরে অনেক রোগীর কুষ্টিয়া এবং ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয় । এছাড়াও শিমুলিয়া গ্রামের আছিয়া খাতুনের বাড়িতে শোবার ঘরে বিষধর গোখরা সাপের ৩০ টি ডিম পাওয়া যায় । ডিম ফুটে সাতটি বাচ্চা বের হলে লোকজন কিছু সাপ মেরে ফেলে । বছর দেড়েক আগে ফুলবাড়ী গ্রামের নববধূ কামরুনাহার এবং তার শাশুড়ি জয়নব বেগমের সাপে কামড় দেয় । খোকসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়।

গত ২৮ মে উত্তর শ্যামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের মাঠ থেকে গোখরা সাপে কামড় দেয় । বিষধর সাপের টিকা এন্টিভেনাম থাকলেও খোকসা হাস পাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে উত্তর শ্যামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের কুষ্টিয়া নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় । মৃত দুলাল বিশ্বাসের ছেলের কাব্য বিশ্বাস জানায়, ডাক্তারদের অবহেলার কারণে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে । 

আমার বাবার সুচিকিৎসা দিলে মারা যেতেন না । আমরা অসহায় হয়ে গেলাম । এর সুষ্ঠু বিচার চাই। 

গত কয়েকদিন ধরে শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজের মালিক দেলোয়ার মাস্টারের বাড়িতে সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে । 

এই নিয়ে খোকসা উপজেলায় জনমনে সাপের আতঙ্ক বিরাজ করছে । সাপের ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে পারছে না । কৃষক অধীর কুমার বিশ্বাস জানায় , বর্ষার সময় এত পরিমান সাপের অত্যাচার বেড়েছে যা আগামী মাসে পাট কাটতে আমরা ভয়ে মাঠে যেতে পারবো না।

খোকসা হাসপাতালের ডাক্তার মাহমুদুল হাসান জানান, হাসপাতালে আই সি ওর ব্যবস্থা নেই । এন্টিভেনাম প্রয়োগের প্রশিক্ষণ না জানার কারণে আমরা ঝুঁকি নিতে পারি না ।