বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রতারক আনিসুর রহমান ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রতারক আনিসুর রহমান ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১, ২০২৪

মোশারফ হোসেন ॥ প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে  বিদেশে পালিয়ে যাবার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান । গতকাল মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১ টার সময় কুমারখালী থানা পুলিশের সহায়তা ঢাকা বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আনিসুর রহমান কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের ইব্রাহীম বিশ্বাসের ছেলে। কুমারখালী থানা পুলিশ জানায়, বিশ্বাস ফাউন্ডেশন এর নাম করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে  লাখ লাখ টাকা প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় আনিসুর। দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে পালিয়ে থাকার পর। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আকিবুল ইসলাম আকিব। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত আনিসুর রহমানের  বিরুদ্ধে প্রায় শতাধিক মামলা রয়েছে। এবং তিন টি  মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিলো। উল্লেখ্য,আনিচুর রহমান বিশ্বাস (আনিচ) ২০০৬ সালে বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায়সমিতি লিমিটেড নামে একটি এনজিও চালু করেন।এরপর বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেবার আশ্বাসে সমিতির সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন এই (আনিচ) প্রতারক। এনজিওর সদস্যরা লাখে ১৫ শত থেকে ২ হাজার টাকা মাসিক লভ্যাংশের আশায় লাখ লাখ টাকা লগ্নি করতে থাকেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে। এভাবেই বাংলাদেশের ৯ টি জেলায় বিভিন্ন নামে ৫৮ টি এনজিওর শাখা তৈরি করা হয়। ৫৮ টি শাখায় প্রায় ১৫৩ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয় এবং কর্মচারিদের নিকট থেকে একাধিক ফাঁকা চেক ও ষ্ট্যাম্প নেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার কথা বলে। এসব কর্মীদের দিয়ে তাদের আত্মীয়- স্বজনদের বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে লগ্নি করানো হয়। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ বিশ্বাস দু’জনের ২ টি প্রাইভেট কার ছাড়াও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আরো তিনটি প্রাইভেট কার কেনা হয়। কুষ্টিয়ার কুমারখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় মোট ৬ টি টিভি ফ্রিজ ও নিত্য ব্যবহার্যের শোরুম চালু করা হয় এবং এসব শোরুমে মালামাল পরিবহনের জন্য দুটি কাভার্ড ভ্যান কেনা হয়। গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া – ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফ এর বাড়ি সংলগ্ন ৭ তলা ভবন ছাড়াও ৪ শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সাথে ১৯ শতাংশ মুল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকা বিভিন্ন এলাকায় ৩/৪ টি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই এমন অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের । ২০২২ সালে সারা বাংলাদেশে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য মালঞ্চ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ নামের এমআরএ সনদ ৪৫ লাখ টাকায় ক্রয় করেন প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও তার বিশেদ ভ্রমন, দুই ছেলের রাজকীয় ভাবে বিয়ে, উপহার, ব্যায়বহুল প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন ভাবে খরচ করেন গ্রাহকের লগ্নি করা টাকা। ২০২৩ সালের শুরুতেই ধ্বস নামে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের। সদস্যরা বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাদের লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টাল বাহানা। একাধিকবার সময় দিয়েও টাকা ফেরত না দিলে সদস্যদের চাপে আলাউদ্দিন নগরের বিশ্বাস ফাউন্ডেশন এর মুল অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় এনজিও কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই দেশত্যাগের চেষ্টা করতে থাকে আনিছ। সেসময় স্থানীয়রা পার্সপোর্ট কেড়ে নিয়ে পরবর্তীতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নতুন পাসপোর্ট এর আবেদন করেন। এছাড়াও পূর্বের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বলে সাধারন ডায়েরী করে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করে যেকোনভাবে আনিস বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের গ্রাহক লিয়াক আলী বিশ্বাস বলেন, আমার এবং আমার পরিবারের প্রায় এক কোটি টাকা নিয়েছে এই আনিচ। আমি দ্রুত এর বিচার চাই। বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের গ্রাহক সরোয়ার আলম জানান, নানা প্রলোভন দেখিয়ে আমার এবং আমার পরিবার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করাই আনিচ ও তার ভাই আবু সাইদ। আমরা সবাই আমাদের কষ্টের জমানো টাকা ফেরত চাই।