কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫বৈশাখ থেকে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার (৯ মে) ছিল অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দ্বিতীয় দিন ইউএনও ফারজানা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম। স্বারক বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। এদিন কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে গান, নৃত্য ও আলোচনার সভার মধ্যদিয়ে কবিকে স্মরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বক্তারা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এসময় অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের পরিচয় ধর্ম, বর্ণ বা জাতিতে নয়, বরং মানুষের পরিচয় মানবতায়। তিনি মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন, স্বাধীন চিন্তার শক্তি দিয়েছেন। নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, ব্যানার, ফেস্টুুন ও আল্পনার মাধ্যমে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে শিলাইদহের কুঠিবাড়ী চত্বর। সামনে উন্মুক্ত মঞ্চে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন রবীন্দ্রভক্তরা। বসেছে মিলনমেলা। এ সময় কুমারখালী শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উৎসবের গান পরিবেশন করেছি। এতে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আগামীতে আরও ভালো আয়োজনের প্রত্যাশা তাঁর।
গোপালগঞ্জ সাইন্স এন্ড টেকনোলোজি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সামন্তা আলম বলেন, পাঠ্যবইয়ে কবির লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। আজ জন্মজয়ন্তীতে কুঠিবাড়ির জাদুঘর, পুকুরপাড়, আমবাগানসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরেছি। সবখানেই রবীন্দ্র প্রেমীদের আনাগোনা। খুবই সুন্দর লাগছে। কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের বাংলাবিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুনুর রশিদ বলেন, বাংলা সাহিত্যের বীর পুুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
শুধু জন্মজয়ন্তী নয়। সারাবছরই যেন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা যায়, সেই লক্ষ্যে কুঠিবাড়ীতে গবেষণাগার, বড় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। কুঠিবাড়ীর প্রধান ফটকরের সামনের ফাঁকা স্থান ও আমবাগানে বসত গ্রামীণমেলা। তবে এবার সুনসান নিরবতা। কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকানি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। তবে নেই চিরচেনা ভিড়। বিকেলে সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় কুমারখালীর এলংগী থেকে আগত খই ব্যবসায়ী আবু বক্কর (৫৮) বলেন, এবার মেলার অনুমতি নেই। দুরের ব্যবসায়ীরা চলে গেছেন (শুক্রবার)। আমরা কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী দোকান বসিয়েছি। লোকজন নেই।
এলোমেলোভাবে চলছে মেলা। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৭৬) বলেন, স্বাধীনের পর থেকে চলে আসছে কুঠিবাড়ীর মেলা। সারাদেশে ব্যাপক নাম ডাক রয়েছে। তবে এবার কি কারণে হচ্ছেনা – তা জানা যায়নি। এতে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে মেলা। শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীর কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন বলেন, আজ কবির রচিত গান, কবিতা, নৃত্য ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে শেষ হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম তিনদিনের জন্মজয়ন্তী উৎসব। উল্লেখ্য, আজ রোববার দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেষ হচ্ছে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব। এরআগে, গত শুক্রবার বিকেলে তিনদিনের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
