বিপ্লব ও ডিউ সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিপ্লব ও ডিউ সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া শহরে পাওনা ২৪ লাখ টাকা চাওয়ায় ইটভাটা মালিক সাইদুল ইসলামকে (৪০) হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, আফরোজা আক্তার ডিউ ও তার লোকজন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ৮ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করা হয়।

আসামীরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর সংলগ্ন ডাংমড়কা এলাকার মৃত নাহারুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, মৃত সোহরাব হোসেনের মেয়ে আফরোজা আক্তার ডিউ, ডিউয়ের ভাই আশরাফুজ্জামান কিরন, হাসানুজ্জামান স্মরন, মৃত রাশিদুল আলমের ছেলে সাকিবুল আলম সোহান, তার বোন রেহানা আলম, পূর্ব মজমপুর এলাকার লাবলুর ছেলে এস ওয়ালিদুজ্জামান শুভ, প্রধান আসামি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের ছোট ভাই ফিরোজ কায়সার। ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া এলাকার মৃত খবির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। সাইদুল ইসলাম বারখাদা এলাকার এসএমজে ইট ভাটার মালিক।

প্রধান আসামি বিপ্লব তার ভাটা থেকে ২৮ লাখ টাকার ইট বাকিতে নেন। পরে বিপ্লবের কাছে পাওনা ২৪ লাখ টাকা চাওয়ায় ভাটা মালিক সাইদুলকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে বিপ্লব ও তার লোকজন। বারখাদা উত্তরপাড়ায় এস এম জে ইট ভাটার মালিক আমি। ২০২২ সালের ২০ মার্চ রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ডিউ ও ডিউয়ের ভাই আশরাফুজ্জামান কিরন আমার ভাটায় এসে ২৪ লাখ টাকার ইট বাকিতে নিয়ে যায়। দুই মাসের মধ্যে আমাকে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলে তারা আমাকে টাকা দেইনি। বিপ্লব আওয়ামীলীগের পৃষ্ঠপোষক, কুষ্টিয়া জেলার প্রথম সারীর নেতা হওয়ায় এবং আসামীরা সন্ত্রাসী হওয়ায় তারা আমাকে বারবার সময় দিয়ে ঘুরাতে থাকে। আমি ভয়ে কিছু না বলে আসামীদের দেওয়া তারিখ অনুযায়ী বারবার তাহাদের পিছে ঘুরতে থাকি।

২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপাস্থতিতে বিপ্লবের বসত বাড়ীতে বসাবসির মাধ্যমে আসামীগণ আমাকে ১২,৫০,৮০০ টাকা দিবে বলে লিখিত চুক্তিনামা করেন। পরে আসামীগণ আমাকে টাকা প্রদান না করে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকলে আমি কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী দায়ের করি। ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি আমি আসামী বিপ্লবের বসত বাড়ীতে গিয়ে আমার পাওনা টাকা চাইতে গেলে আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা চেষ্টা করে। আমাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক এলোপাতাড়িভাবে মাথা, হাত সহ বিভিন্ন জায়গায় মারপিট করে গুরুতর আহত করে।

মারাত্মক আহত অবস্থায় আমি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হই। প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে আমার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় ওই দিনই পরিবারের লোকজন উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকার বিআরবি হাসপাতাল ঢাকায় ভর্তি করে। কোন উপায় না পেয়ে, গত ৪ আগস্ট পুনরায় আমি সহ সাক্ষী ভাটার ম্যানেজার ম্যানেজার মিলন, রাশেদুল ইসলাম, সুজন আলী এক নম্বর আসামী বিপ্লবের বসত বাড়ীতে গিয়ে আমার পাওনা টাকা চাইলে সকল আসামীরা আমাকে পূর্বের ন্যায় খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে এবং টাকা দিতে পারবে না বলে জানায়।

তাদের নিকট পুনরায় টাকা চাইতে গেলে আমাকে সহ আমার পরিবারের সফল লোকজনদের খুন করার হুমকি দেয়। আসামীগণ পরস্পর যোগসাজশে প্রতারনার মাধ্যমে আমার নিকট হতে চব্বিশ লক্ষ টাকার ইট গ্রহণ করে আত্মসাৎ করার জন্য আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত জগম করিয়াছে। স্থানীয়ভাবে আসামীদের নিকট হতে আমার পাওনা টাকা আদায়ের সকল চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। বিষয়টি আমার পরিবার এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। ভুক্তভোগী বলেন, আসামিদের কাছে আমি ২৪ লাখ টাকা পায়। তারা আমার ভাটা থেকে ইট নিয়ে আর টাকা দেয়নি।

টাকা চাইতে গেলে তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর আহত করে। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও পাওনা টাকা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে কথা বলার জন্য আসামিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।