নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ইচ্ছেমত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিয়ম বহিঃর্ভূত প্রক্সি শিক্ষকসহ স্ত্রী শালিকা আর শ্যালকের স্ত্রী নিয়ে পারিবারিক খ্যাত একটি সরকারি বিদ্যালয় আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রে বিন্দুতে অবস্থান করছে।
যা রীতিমত টক অব দ্যা সিটিতে পরিনত হয়েছে। মাসের পর মাস অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা গ্রহন করছেন অনুপস্থিত শিক্ষক। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসার ৯১ নং শাকদহচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির গুঞ্জন এখন সর্বত্র।
এই বিদ্যালয়ে মোট ছয় জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেজাউলের শালিকা বর্নালী রাণী পাল ও স্ত্রী সোনালী খাতুন সহকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের শ্যালকের স্ত্রী বর্তমানে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে অনিয়মিত পাঠ দান করছেন। কমলমতি শিক্ষার্থী , অভিভাবক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক রেজাউলের স্ত্রী সোনালী খাতুন প্রায় ৪ বছর যাবৎ অসুস্থ্য। তিনি বিদ্যালয়ে বছরে একবারও উপস্থিত থাকেন না।
শুধুমাত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময়টুকু উপস্থিত থাকেন। সোনালী খাতুনের অসুস্থ্যতার বাহানায় তার সেবার অজুহাত দেখিয়ে তার বোন বর্নালী রাণী পালও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। বাড়ির পাশে বিদ্যালয়টি হওয়ার সুবাধে প্রভাবশালী প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ে আসেন। হাজিরা খাতা নিজের নিয়ন্ত্রনে রেখে তিনি স্ত্রী ও শালিকার উপস্থিত সব সময় হাজিরা খাতায় তুলে থাকেন।
স্ত্রী ও শালিকার অনিপুস্থিতির কারনে মাসিক ১৫০০ টাকার চুক্তিতে স্থানীয় এক কলেজ ছাত্রী রিতাকে প্রক্সি শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। ঘটনাটি বাইরে জানা জানি হওয়ার পর রেজাউল ইসলাম তার শ্যালকের স্ত্রীকে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তথ্যসূত্রে আরো জানা যায়, তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কার্যালয়ের এক অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই তার অরাজকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের কোন ম্যানেজিং কমিটি আছে কিনা সেই বিষয়ে স্থানীয়রা জানেন না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম তার ভাই রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে একটি কমিটি করেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। হালসা এলাকার দায়িত্বরত মিরপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আলিফ আহম্মেদ জানান, “আমি হালাল খায় , আমার এড়িয়ায় কোন অনিয়ম হয় না, যেহেতু হালাল খায় তাই কথা একটু জোড়ে বলি, আমি স্কুলে নিজের টাকা কেনা মটোরসাইকে কয়েকবার গিয়েছি, সে কয়বার সবাইকে স্কুলে পেয়েছি” ।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুম মনিরা জানান, আমি সোনালী খাতুনের অসুস্থ্যতার কথা জানিনা, ভিজিটে গেলে সবাইকে পায়, তবে ঘটনাটির তদন্ত করা হবে। কমিটির কোন কাগজ প্রধান শিক্ষক আমার কাছে জমা দেয়নি। তবে প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম তার স্ত্রী সোনালী খাতুন ও শ্যালিকা বর্নালী রাণী পালের অনুপস্থিতির বিষয়ে সত্যতা স্বিকার করে তিনি জানান, আমার ভুল হয়েছে মেডিকেলল ছুটি নেয়া হয় কিন্তু ছুটির থেকে বেশি অনুপস্থিত থাকা ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির দরকার নেই।
