বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ওয়েলফেয়ার সেন্টার কুষ্টিয়ার সহযোগিতায় বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে রেইজ প্রকল্পের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সেমিনারে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (আইআরপি)’র পরিচালক গিয়াস উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছাঃ শারমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তারেক জুবায়ের। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তকর্তা সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ। উক্ত সেমিনারে স্বাগত বক্তা হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন জেলা ওয়েলফেয়ার সেন্টারের পাবনা ও কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন যুব উন্নয়ন কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মতিয়ার রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী, জাতীয় মহিলা সংস্থা কুষ্টিয়ার চেয়ারম্যান জেব-উন-নিসা এবং বিসিক জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপমহাব্যবস্থাপক(ভাঃ) মোঃ আশানুজ্জামান। সেমিনারে আলোচনাকালে বক্তারা বলেন, একটু ভালো উপার্জনের আশায় তারা বছরের পর বছর বিদেশে পড়ে থাকেন। তাদের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ। শুধু তাই নয়, আমাদের আকাশচুম্বী চাওয়া-পাওয়ার অনেকটাই নির্ভর করে প্রবাসীদের ওপর ভরসা করে। তারা সাধ্যমতো হাসিমুখে তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যান পরিবার ও দেশকে। যে অর্থ দিয়ে আমরা বিলাসিতা করি সেই অর্থ উপার্জনে তাদের পরিশ্রমের কথা আমাদের বিবেচনায় থাকে না। এসব আর্থিক যোদ্ধা, যাদের রেমিটেন্সের টাকায় আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকা উচিত। জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, এই সেমিনার আপনাদের এজন্য ডাকা হয়েছে যেন আপনারা বিদেশ থেকে ফেরার পর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর আপনাদের যে পুনর্বাসন ব্যবস্থা করেছে সে ব্যাপারে আপনাদের জানানোর জন্য। বিদেশ ফেরত নিবন্ধিত সমিতি থাকলে তাদের প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি করা যেত। বিদেশে যারা যায় তাদের ডাটা সরকারের কাছে আছে। কিন্তু বিদেশ ফেরত তাদের ডাটা এ প্রকল্প জন্য খুবই প্রয়োজন। ২০২৩ সালে আমরা প্রায় ১৩ লক্ষ প্রবাসী পাঠিয়েছি। কিন্তু সে অনুসারে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার আসার প্রবাহ কম। তার একটা বড় কারণ হচ্ছে আমাদের পরিবারের যারা প্রবাসে থাকে, তাদের বেশিরভাগ প্রবাসী নগদ, বিকাশ ও বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ফলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে যারা অবৈধ উপায়ে বিদেশ গমন করেছেন তাদের ভেতর অবৈধভাবে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বেশি। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে গেলে অনেক কাগজ চাই। সে ক্ষেত্রে অবৈধ প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠায়। কিন্তু এটা অবৈধ। এগুলো যদি ধরা পড়ে তাহলে ওই প্রবাসীর সকল টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে। প্রবাসীদের রেমিটেন্স বৈধভাবে দেশে আনার জন্য সরকার নানাবিধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাই বিদেশ থেকে বৈধভাবে টাকা দেশে পাঠিয়ে দেশের কোষাগারকে শক্তিশালী করতে হবে।
