বিএনপির কতিপয় নেতার ষড়যন্ত্রে ধানের শীষ প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিএনপির কতিপয় নেতার ষড়যন্ত্রে ধানের শীষ প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল, সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করার কারনেই কুষ্টিয়া ৪ আসনে ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমারখালীতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ এমন অভিযোগ করেন। কুষ্টিয়া – রাজাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস উজ জামান, খোকসা পৌর বিএনপির সভাপতি এ জেড জি রশিদসহ অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী। লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা আমজাদ আলী বলেছেন, কুষ্টিয়া ৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি এই আসনের সাবেক দুইবারের এমপি ছিলেন। তাঁর বাবা সৈয়দ মাসুদ রুমীও এমপি ছিলেন। তবে দলীয় কোন্দল, সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও সমর্থকদের বেঈমানির কারনে গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

তিনি আরো বলেছেন, এই আসনে মেহেদী রুমী ছাড়াও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল মেহেদীকে মনোনয়ন দিলেও সাদী ও আনছার স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন। এরপর শেষ পর্যন্ত আনছারের প্রার্থীতা অবৈধ ঘোষণা হয় এবং সাদী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। তবুও এই দুই নেতা ও কর্মীদের সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের সঙ্গে বিরোধিতা করে এবং দাঁড়িপাল্লায় প্রকাশ্যে ভোট করেন। লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা আমজাদ আলী বলেছেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান এবং খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান ও তাঁদের সমর্থিত নামধারী বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট করে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে দল থেকে বহিস্কারের

দাবি তাঁর। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, সমন্বয়হীনতা ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দ্বারা নির্বাচন পরিচালনা করায় ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে। এখন আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। মূলত অভিযোগকারীদের কারনেই প্রার্থী হেরেছে। আর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী মুঠোফোনে বলেন, এটা কি হয় নাকি। আমরা বাদ দিলে কি বিএনপি থাকে। শোনেন, আমি, আনছান ভাই, আলাউদ্দিন সাহেব, লুৎফর ভাই, আমরায় তো কুমারখালী খোকসার নেতা। আমরা যদি ভোট না করতাম। তাহলে এতো ভোট আসলো কোথা থেকে।  তাঁর ভাষ্য, কিছু নেতাকর্মী নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী সেয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন।