কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর, সহ-সভাপতি ডা: এএফএম আমিনুল হক রতন, সহ-সভাপতি বাবু স্বপন কুমার ঘোষ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাসানুল হাসকর হাসু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাছুম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মানিক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শিলা রানী বসু, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুল হক পুলক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একরামুল হক সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
এসময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান বলেন অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আওয়ামী লীগ যেখানে কেন্দ্র থেকে জেলা ওই স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন শান্তি সমাবেশ করছে সেখানে মহাসমাবেশের নামে খুনি জিয়ার উত্তরসুরীরা আবারও দেশে আগুন সন্ত্রাসের খেলা করেছে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তারা মহাসমাবেশে ব্যর্থতা প্রমাণ দিয়ে গতকাল ঢাকার সব প্রবেশ মুখে জনসাধারণের চলাচলের বিঘ্ন ঘটাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশে মেগা প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন হয়েছে যার মধ্যে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পায়রা বন্দর, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল সহ দেশের অসংখ্য উন্নয়ন করেছে আর আমরা এই উন্নয়নকে তুলে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ করছি।
ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন যায়গায় আজ উন্নয়নের রোল মডেল ঠিক তেমনি কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এম পি মহদয় কুষ্টিয়ার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে যার মধ্যে অন্যতম হলো বাইপাস সড়ক, শেখ রাসেল সেতু, নির্মাণাধীন শেখ কামাল স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আধুনিক শিল্পকলা একাডেমী, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ। আজকে উত্তর দিলাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সদর, শহর সহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সংগঠনগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। সেই বিএনপি আমলে বাংলাদেশ ছিলো সন্ত্রাসের বাংলাদেশ সে বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসমুক্ত উন্নয়নশীল বাংলাদেশ।
২০১৪ সালে ওই শয়তানের দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল না কিন্তু ২০১৮ সালে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে, তখন মিস্টার ফখরুল বলেছিল অবাধ সুষ্ঠ নিরেপক্ষ নির্বাচন হয়েছে, মিস্টার ফকরুল সেসময় ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয় লাভ করেছিল, কিন্তু বিদেশে পলাতক খুনি তারিখের নির্দেশে মীর্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হতে পদত্যাগ করে। আজকে আমি বিশ্বাস করি কুষ্টিয়া সহ সারা বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে মানুষের যে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে যার কারোনেই আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে। আজকে তারা নির্বাচনকে বানচাল করতে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ১৯৫২ সাল ৬৬ সাল ৬৯ সাল ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সহ সব সময় পরীক্ষা দিয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের আর নতুন করে পরীক্ষা দেওয়া লাগবেনা, জনগণের ভোটেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভীষণ ও মিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন হবে। তাই বলতে চাই উন্নয়নের জন্যই জনগণের ভোটেই আগামীতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হবে এর কোন সন্দেহ নাই।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন আসলে তোমরা স্লোগান দিয়েছো আমরা স্লোগান দিয়েছি, এই সেই স্লোগান হচ্ছে জয় বাংলার স্লোগান। জয়বাংলা স্লোগানের জিকির তুলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশের বৃদ্ধ ছাত্র সব এক হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আর্মস নিয়ে অস্ত্র নিয়ে একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরি করেছে বিশ্বের মাঝে। গবেষণা করে দেখবা বঙ্গবন্ধু যে কাজটি করেছে বিশ্বের মধ্যে নতুন করে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এদেশের জাতির পিতা হয়েছে বাঙালিকে বীরের জাতিতে পরিণত করেছে। বন্ধুরা আমার পিছনে লেখা আছে বিএনপি সন্ত্রাসী নৈরাজ্য ও অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শান্তির জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আমরা সেই বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল একটু পরেই করব।
আমি বিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি আজকে যারা হাজির হয়েছেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক হিসেবে এবং শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে আমাদের নেতার কর্মী হিসেবে এই কুষ্টিয়ায় যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো ইনশাল্লাহ। আমার মনে হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে এবং ৩ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই দেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধু ১৫ই আগস্ট শহীদ হয়েছিলেন। জাতীয় চার নেতা সফলভাবে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন তাদের কেও কারাগারে হত্যা করা হলো। তাই আজকে বলতে চাই বাংলাদেশে আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কোন স্থান নাই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কে শক্ত হাতে মোকাবেলা করবে। তাই আমি সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আজকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
এসময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. এএফএম আমিনুল হক রতন বলেন বিএনপি তার রেড লাইন অতিক্রম করেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে তারা এক দফা দাবি দিয়েছে, কি বলে আমাদের পতন ঘটাবে তাছাড়া নেতাকর্মীদেরকে ঢাকা থেকে আসতে নিষেধ করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাই আওয়ামী লীগকে এক দফা দুই দফা দিয়ে কোন লাভ হবে না। তাই আমরা সাবধান করে দিচ্ছি হুঁশিয়ারি করে দিচ্ছে এরপরে যদি আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চান তাহলে বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে জবাব দিতে প্রস্তুত। তাই আমি আমাদের যুবলীগ ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ শ্রমিক লীগ সহযোগী সংগঠনে সবাইকে বলব সবাই প্রস্তুত হন। আমরা বিএনপি’র কোন অপ্রীতিকর ঘটনার বরদাস্ত করবো না।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে কুষ্টিয়ার এন এস রোডে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা আওয়ামী লীগ।
